ফের শুরুর আগেই বাড়ল লোকাল ট্রেনের সংখ্যা, অনেক বেশি চলবে মেট্রোও! – OnlineCityNews

ফের শুরুর আগেই বাড়ল লোকাল ট্রেনের সংখ্যা, অনেক বেশি চলবে মেট্রোও!

প্রতীক্ষার অবসান, জল্পনারও। এবং দুশ্চিন্তার সূত্রপাত। করো’নার কারণে ২৩২ দিন বন্ধ থাকার পরে অবশেষে আগামী বুধবার, ১১ নভেম্বর থেকে বাংলায় সম্ভবত চালু হচ্ছে লোকাল ট্রেন। গত ২৩ মা’র্চ থেকে লোকাল ট্রেন পরিষেবা বন্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার নবান্নে রাজ্য ও রেলের বৈঠকে বুধবারকেই সাড়ে সাত মাস পরে ফের লোকাল ট্রেন চালুর দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

করো’না সংক্রমণ থেকে বাঁচতে কী করা উচিত, সে বিচার যাত্রীদের উপরে ছেড়ে, শুধুমাত্র মাস্ক বাধ্যতামূলক করে ২৫ শতাংশ ট্রেন নিয়ে শুরু হওয়ার কথা ছিল পরিষেবা। কিন্তু শিয়ালদা ডিভিশনে অত্যধিক যাত্রীর কথা মাথায় রেখেই শুক্রবার ফের সি’দ্ধান্ত বদল করল রেল।

সূত্রের খবর, শিয়ালদা ডিভিশনে ২৫% নয়, বরং আপাতত ৪৬ শতাংশ ট্রেন চলবে রোজ। এই বি’ষয়টি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলের সামনে তুলে ধরতে বলেছিলেন। তা রেলের কাছে বলার পরই এ নিয়ে সি’দ্ধান্ত বদল হল। অর্থাৎ ৪৬ শতাংশ ট্রেন চললে রোজ ওই লাইনে ৪০০টি লোকাল ট্রেন চলতে পারে। হাওড়া ডিভিশনে ১০০টি এবং দক্ষিণ-পূর্ব রেলে ৩৪টি ট্রেন চলবে। কোনও গ্যালপিং ট্রেন রাখা হয়নি। প্রতিটি প্রধান স্টেশনেই সব ট্রেন দাঁড়াবে।

অ’পরদিকে, লোকাল ট্রেন পরিষেবার স’ঙ্গে সাযুজ্য রেখেই ১১ নভেম্বর থেকে থেকে বাড়ছে কলকাতা মেট্রো রেলের ট্রেনের সংখ্যাও। আপাতত সি’দ্ধান্ত হয়েছে, প্রতিদিন মোট ১৯০টি ট্রেন চালানো হবে। সকাল এবং বিকেলে অফিস টাইমে ৭ মিনিট অন্তর চলবে মেট্রো।

বর্তমানে দিনে ১৫০টির মতো ট্রেন চালাচ্ছিল কলকাতা মেট্রো। করো’না পরিস্থিতি আবার মেট্রো চালু হওয়ার পর প্রথম দিকে কলকাতা মেট্রোয় দিনে গড়ে ৫০ হাজার মতো যাত্রী হচ্ছিল। এখন সেই সংখ্যাটা বাড়ছে। লোকাল ট্রেন চালু হলে আরও বাড়বে ধরে নিয়েই তাই মেট্রোর সংখ্যা বাড়ানোর সি’দ্ধান্ত নেওয়া হল।

লোকাল ট্রেন চালুর দাবিতে যাত্রীদের একটি বড় অংশ সম্প্রতি সরব হয়েছিলেন। এ নিয়ে কিছু স্টেশনে বিক্ষো’ভও হয়েছে। কবে থেকে, কী ভাবে লোকাল ট্রেন চালু হবে, তা নিয়ে চলছিল নানা জল্পনা। আপাতত সে সবে যবনিকা পড়ল বটে, কিন্তু দুশ্চিন্তার বিস্তর অবকাশ রেখে।

কেননা, মাত্রাছাড়া ভিড়ে লাগাম দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা ছাড়াই লোকাল ট্রেন চালুর সি’দ্ধান্ত হয়েছে। মুম্বইয়ে যাত্রীদের ‘অত্যাব’শ্যকীয়’ বা ‘সাধারণ’ শ্রেণিবিভাগ করে ট্রেনে ভিড় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হয়েছে। কলকাতা মেট্রো রেল অ্যাপ তৈরি করে ভিড়ে লাগাম দিতে চেয়েছে। কিন্তু কলকাতা এবং শহরতলির লোকাল ট্রেনে ভরসা বলতে এখনও পর্যন্ত শুধুমাত্র জনসচেতনতাই।

কোভিড পরিস্থিতিতে লোকাল ট্রেন চালু নিয়ে গত সোমবার, ২ নভেম্বর রাজ্য-রেলের প্রথম বৈঠক হয়। সেখানে নিরাপ’দ স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে যে প’দ্ধতি অবলম্বনের আলোচনা হয়েছিল, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে কিন্তু তার অনেকাংশই উহ্য থেকেছে। সংক্রমণ রোখার উপায় হিসেবে মাস্ক বাধ্যতামূলকের অংশটুকুই শুধু জায়গা পেয়েছে আলোচনায়। কিন্তু মাস্ক-বিধিও পালিত হচ্ছে কি না, তা নজরে রাখবেন কে? এ নিয়ে আলোচনাই হয়নি। প্রতি যাত্রীর থার্মাল চেকিং হবে না। সেটি হবে শুধুমাত্র ‘সন্দে’হভাজনদের’ এবং ভিড় থেকে বেছে, যেমন-তেমন ভাবে।

প্রথম দিনের বৈঠকে আলোচনা হয়েছিল, দূরত্ববিধি মাথায় রেখে প্রতি ট্রেনে মাত্র ৬০০ জন যাত্রী উঠতে পারবেন। বৃহস্পতিবারের আলোচনায় যাত্রীদের মধ্যে নিরাপ’দ দূরত্ব বজায় রাখায় জন্য কার্যত কোনও ব্যবস্থাই রাখা হয়নি। উল্টে, কোভিড পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় মাত্র ২৫ শতাংশ ট্রেন চলায় প্রতি ট্রেনেই বাদুড়ঝোলা ভিড়ের আশ’ঙ্কা তৈরি হয়ে গেল। যদিও শিয়ালদা লাইনে ট্রেন বাড়ানোর সি’দ্ধান্ত হলেও তা কতটা চাহিদা মেটানোর অনুকূল হবে, তা নিয়ে সন্দিহান অনেকেই।

কেন এই গা-ছাড়া মনোভাব, সে বি’ষয়ে কোনও মন্তব্যও দক্ষিণ-পূর্ব রেলের ক’র্তারা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বৈঠকের সি’দ্ধান্ত কার্যকর করার দায়িত্ব রেলের। ঠিক হয়েছে, যাত্রীদের সুবিধের জন্য প্রতি স্টেশনের সব টিকিট কাউন্টার খোলা থাকবে। তবে ইউটিএস অ্যাপ ব্যবহারে যাত্রীদের উৎসাহ দেওয়া হবে। আগের আলোচনায় ভিড় সামাল দিতে গ্যালপিং ট্রেনের উপরে জোর দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে কিন্তু ঠিক হয়েছে, আপাতত কোনও ট্রেনই গ্যালপিং হবে না। অতএব, ভিড় বাড়ার সম্ভাবনা এখানেও তৈরি হয়েছে।

এ ভাবে যাত্রীদের উপরে সব দায়িত্ব ছেড়ে ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা ভালো চোখে দেখছেন না জনস্বাস্থ্য বিশারদরা। চিকিৎসক অনির্বাণ দলুই বলছেন, ‘লোকাল ট্রেনে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন না-করলে সংক্রমণ তীব্রতর হওয়ার আশ’ঙ্কা। এই দায়িত্ব রেল ও রাজ্য, দু’পক্ষকেই নিতে হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *