ইরফান সেলিমের বাসায় পাওয়া গেল ড্রোন! এই য’ন্ত্র দিয়ে সে যা করতো? – OnlineCityNews

ইরফান সেলিমের বাসায় পাওয়া গেল ড্রোন! এই য’ন্ত্র দিয়ে সে যা করতো?

হাজী সেলিমের পুত্র ইরফান সেলিমের রুমে পাওয়া গেছে ড্রোন। সোমবার র‌্যা’­বের অ’ভিযানে ৯ তলা এ বাড়িতে অ’ভিযানে এছাড়াও পাওয়া গেছে নানা ডিভাইসসহ অ’ত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। এ রুমের একপাশে থাকতেন হাজী সেলিমের ছে’লে ইরফান সেলিম। ওখানে মিলেছে হ্যান্ডকাপও।

তৃতীয় রুমের বিছানার ম্যাট্রেস উঠানোর পরই দেখা যায় গু’লিভর্তি একটি বিদেশী অ’বৈধ পি’স্তল আর বিভিন্ন পরিচয়পত্র। আছে দেশী-বিদেশী নানা ব্রান্ডের মা’দকদ্রব্যও। র‌্যা’­ব কর্মক’র্তারা জানিয়েছেন, ইরফান সেলিমের ৪তলার বেডরুমে একটি ম’দের খোলা বোতল এবং একটি বক্সে আরও বেশ কয়েকটি বিদেশী ম’দের বোতল পাওয়া গেছে।

তাকে ম’দ্যপ অবস্থায় আ’ট’ক করা হয়।চকবাজারের ২৬ দেবিদাস ঘাট হাজী সেলিমের রাজকী’য় ভবন ‘চান সরদার দাদা বাড়ি।সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ৯ তলা এ বাড়িতে অ’ভিযানে ঢুকেন র‌্যা’­বের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে র‌্যা’­বের গোয়েন্দা ইউনিট, র‌্যা’­ব-৩ ও র‌্যা’­ব-১০ এর সদস্যরা।

ভেতরে ঢুকতেই র‌্যা’­ব কর্মক’র্তাদের যেন পিলে চ’মকানো অবস্থা। লেনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যের এ বাড়ি যেন বাড়ি নয়, রাজপ্রাসাদে অ’ভিযান। বাড়ির নিচতলায় হাজী সেলিমের বাবা-মায়ের ছবি টানানো। নিচতলায় সিড়ির পাশেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডিভাইস বসানো।

এখানে ফিঙ্গারের ছাপ দেয়া ছাড়া কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হতো না। বাড়ির চতুর্থ তলায় একটি কক্ষে ঢুকে দেখা যায় এ যেন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের শো-রুম। অ’ভিযানে অংশগ্রহণকারী একজন র‌্যা’­ব কর্মক’র্তা জানান, ৪তলার ইরফানের কক্ষটি ভেতর থেকে লক করা ছিল।

বাড়ির কেয়ারটেকারকে সঙ্গে নিয়ে সেই রুমে যান অ’ভিযানকারীরা। কেয়ারটেকারের ডাকে দরজা খুলেন ইরফান। এসময় তিনি ঢলতে ছিলেন। র‌্যা’­বের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কর্মক’র্তাদের দেখে ইরফান বলতে থাকেন- হু আর ইউ? অ্যাম আই এ ক্রিমিনাল? উইল ইউ অ্যারেস্ট মি?।

র‌্যা’­বের একটি সূত্র জানায়, র‌্যা’­বের অ’ভিযানের আগেই বাড়ির আশপাশের মোড়ে মোড়ে ইরফান সেলিমের লোক দাঁড়ানো ছিল। র‌্যা’­বের ধারণা, ওয়াকিট’কি দিয়ে পুরো এলাকা নজরদারি করছিল। ওই বাড়ি থেকে একটি ওয়ারলেস নেটওয়ার্ক স্টেশন উ’দ্ধার করা হয়েছে।

যেখান থেকে ৩৮টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ওয়াকিট’কি পাওয়া গেছে। যেগুলো সাধারণত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করেন। র‌্যা’­বের ধারণা এই ওয়ার্লেস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চাঁদাবাজি সন্ত্রাস ও জি’ম্মি করাসহ নানা অ’বৈধকাজে তার ক্যাডার বাহিনীর মাধ্যমে তারা এই ওয়াকিট’কিগুলো ব্যবহার করতো।

এমনকি এই ভবনের পার্শ্ববর্তি একটি ভবনে একটি টর্চার সেলের সন্ধান পাওয়া গেছে। যেখানে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও প্রতিপক্ষকে চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে জি’ম্মি করে টর্চার করা হতো বলে ধারণা করছে র‌্যা’­ব। ওয়াকিট’কি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পুরনো ঢাকার ঘিঞ্জি এলাকার ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত তারা এই নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করতে পারতো।

এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তারা চাঁদাবাজি করতো। বাড়িটি শক্তিশালী সিসিক্যামেরাভুক্ত থাকার পরও তারা ওয়ার্লেস নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতো। র‌্যা’­ব কর্মক’র্তারা জানিয়েছেন, বাড়ির ভিতরে একটা কন্ট্রোল সিস্টেম ছিল। এরফান সেলিমের বেডরুমটি রীতিমতো কন্ট্রোল রুম হিসাবে ব্যবহার হতো।

সেখান থেকেই সে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতো। অ’ভিযানের আগে থেকেই ওই বাড়ির আশপাশের এলাকা র‌্যা’­ব ঘেরাও করে রাখে। গণমাধ্যম কর্মী ছাড়া অন্য কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। র‌্যা’­বের আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান,লাইসেন্সবিহীন একটি বিদেশী অ’স্ত্র, সঙ্গে ৫-৬ লিটার বিদেশী ম’দ এবং তার দেহরক্ষী মোঃ জাহিদের কাছ থেকে একটি বিদেশী অ’স্ত্র এবং ৪০০ পিস ইয়াবা আম’রা জ’ব্দ করতে সক্ষম হই।

র‌্যা’­বের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম ইরফান সেলিমকে অ’বৈধ ওয়াকিট’কি রাখা এবং ব্যবহারের জন্য ৬ মাসের কারাদ’ণ্ড দেন। পাশাপাশি বিদেশী ম’দ সেবন করার জন্য ৬ মাসের কারাদ’ণ্ড প্রদান করেছেন। অর্থাৎ অ’ভিযু’ক্ত প্রত্যেককে এক বছর এক বছর করে কারাদ’ণ্ড দেয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আ’দালতের এই দ’ণ্ডের পাশাপাশি দুজনের বি’রুদ্ধে অ’স্ত্র ও মা’দক আইনে দুটি মা’মলা দায়ের করা হবে। ইরফান সেলিম নোয়াখালীর একজন সংসদ সদস্যের মে’য়ের জামাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *