একদিকে পূজা-অর্চনা, আরেকদিকে নামাজ – OnlineCityNews

একদিকে পূজা-অর্চনা, আরেকদিকে নামাজ

মন্দিরে চলছে হিন্দু ধ’র্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। ম’সজিদের আজান শুরু হতেই মন্দিরের পূজা-অর্চনা বন্ধ করা হয়। দলে দলে মু’সল্লিরা ম’সজিদে ঢুকে আদায় করেন নামাজ। আবার মন্দিরে ঢোল-তবলা ও পূজার সামগ্রী নিয়ে অ’পেক্ষমাণ হিন্দু ধ’র্মাবলম্বী নারী-পুরুষ নামাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে শুরু করেন পূজা-অর্চনার আনুষ্ঠানিকতা।

লালমনিরহাট শহরের কালিবাড়ীতে একই স্থানে ম’সজিদে ধ’র্মপ্রা’ণ মু’সলমানরা আদায় করছেন নামাজ এবং হিন্দু ধ’র্মাবলম্বীরা মন্দিরে তাদের বৃহৎ ধ’র্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা পালন করছেন। এমন দৃশ্য যেন ধ’র্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

দিনাজপুর থেকে এখানে পূজায় আসা লক্ষী রানী বলেন, আত্মীয়-স্বজনের কাছে শুনে দেখতে এসেছি, কালীবাড়ি দুর্গা মন্দির ও পুরান বাজার জামে ম’সজিদ একই সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে। যে যার ধ’র্ম পালন করে চলে যাচ্ছে। সত্যি এমন ধ’র্মীয় সম্প্রীতি চোখে পড়ার মতো।

কালীবাড়ি মন্দিরের পুরোহিত শ্রী শ্রী শঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, আজান ও নামাজের সময় বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার বন্ধ রাখা হয়। ধ’র্মীয় সম্প্রীতির বিঘ্ন ঘটে- এমন অবস্থার মধ্যে আমাকে কোনো দিনই পড়তে হয়নি বরং স্থানীয় মু’সল্লিদের সহযোগিতা পেয়ে আসছি।

পুরান বাজার জামে ম’সজিদের মুয়াজ্জিন মোহাম্ম’দ রফিকুল ইস’লাম বলেন, যখন ম’সজিদের আজান হয় তখন হিন্দু ধ’র্মাবলম্বীরা বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখেন। নামাজ শেষ হলে আবার তারা তাদের পূজা শুরু করেন। এই নিয়মে যুগ যুগ ধরে আম’রা ধ’র্ম পালন করে আসছি। আজ পর্যন্ত এখানে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হয়নি।

প্রসঙ্গত, ১৮৯৫ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় এই মন্দিরটি। এর ৫ বছর পর ১৯০০ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় ম’সজিদ। প্রায় দেড়শ বছর ধরে হিন্দ-মু’সলমান মিলেমিশে তাদের নিজ নিজ ধ’র্ম পালন করে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *