Breaking News
Home / সারা দেশ / ‘সত্য কথা বললে বুকে গু’লি করব, পিঠ দিয়ে বের হবে’

‘সত্য কথা বললে বুকে গু’লি করব, পিঠ দিয়ে বের হবে’

Advertisement

সিলেটের বন্দরবাজার পু’লিশ ফাঁড়িতে পু’লিশি নি’র্যা’তনে রায়হান নি’হত হওয়ার পর ঘটনার কথা কাউকে না বলতে দুই কনস্টেবলকে গু’লি করে মা’রার হু’মকি দিয়েছিলেন ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ ও রায়হান হ’’ ত্যার ঘটনায় প্রধান স’ন্দেহভাজন এসআই আকবর হোসেন ভূইয়া।

আ’দালতে কনস্টেবল সাইদুর রহমান ও দেলোয়ার হোসেনের ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানব’ন্দিতে এই তথ্য উঠে এসেছে। আ’দালতে কনস্টেবল সাইদুর বলেছেন সেদিন এসআই আকবর তাকে হু’মকি দিয়ে বলেন,‘সিনিয়র স্যাররা এলে বলবি, ফাঁড়িতে কোনো লোক এনে নি’র্যা’তন করা হয় নাই।

সে (রায়হান) কাস্টঘর থেকে গণপি’টুনি খেয়ে ধ’রা পড়েছে। তাকে সরাসরি ওসমানী হাসপাতা’লে নেয়া হয়েছে, যা বলছি তাই বলবি। সত্য কথা বললে বুকে গু’লি করব, পিঠ দিয়ে বের হবে।’ জানা যায়, পু’লিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ওই মা’মলার ত’দন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর ঘটনার সময় বন্দর ফাঁড়িতে দায়িত্বে থাকা তিন কনস্টেবল দেলোয়ার,

শামীম ও সাইদুরকে ১৯ অক্টোবর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আ’দালতের বিচারক জিহাদুর রহমানের খাস কা’ ম’রায় নেয়া হয়। সেখানে তাদের জবানব’ন্দি গ্রহণ করেন বিচারক। কনস্টেবল শামীম মিয়া জবানব’ন্দিতে জানিয়েছেন, ১০ অক্টোবর রাত ২টার দিকে বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক পড়াশোনা শেষ করে ফাঁড়ির মুন্সির কক্ষে তিনি ঘুমিয়ে যান।

রাত ৩টার পর কক্ষের ভেতরেই কা’ন্নার আওয়াজ শুনে তার ঘুম ভেঙে যায়। দেখতে পান রায়হানের দুই হাত পেছনের দিকে হাতকড়া লাগানো। মেঝেতে বসে চি’ৎকার করছেন তিনি। কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস মোটা লা’ঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মা’রধর করছেন।

একপর্যায়ে তিনি ডান দিকে কাত হয়ে মেঝেতে শুয়ে পড়লে কনস্টেবল টিটু তার পায়ের তলায় আ’ঘাত করে। তখন কনস্টেবল হারুনুর রশিদ রুমে প্রবেশ করেন। তিনিও রায়হানকে মা’রধর শুরু করেন। এ সময় এএসআই আশেক এলাহী ও কুতুব উদ্দিন রুমে উপস্থিত ছিলেন। আর রুমের দরজায় দাঁড়ানো ছিলেন কনস্টেবল তৌহিদ ও সজিব।

এর কিছুক্ষণ পর রুমে প্রবেশ করেন ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন। তিনি টিটুর হাতের লা’ঠি নিয়ে রায়হানকে তার নাম-ঠিকানা জিজ্ঞাসা করেই বেধড়ক পে’টাতে শুরু করেন। তার মা’রমুখী আচরণ দেখে এএসআই কুতুব আকবরকে বলেন, স্যার আর মাইরেন না। তখন আকবর রুমের একটি বিছানায় লা’ঠি হাতে নিয়ে বসে যান।

সকাল সাড়ে ৭টায় সিয়েরা-৪ ডিউটিতে যাওয়ার জন্য ঘুম থেকে উঠে দেখি রায়হানকে যেখানে মা’রধর করা হয়েছে সেই স্থানটি ভেজা। সকাল ৯টায় আম’রা ওসমানী মেডিক্যালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগের স্টোরে গিয়ে দেখি একটি লা’শ রাখা আছে। পাশে দাঁড়িয়ে আছে কনস্টেবল তৌহিদ। তখন লা’শটি দেখে আমি চিনতে পারি।

কনস্টেবল সাইদুর আ’দালতকে জানান, বন্দরবাজার ফাঁড়ির মুন্সি কনস্টেবল আমিনুলের রুমে কনস্টেবল হারুন রায়হানের পা উঁচু করে ধরে রাখেন আর এসআই আকবর ও কনস্টেবল টিটু তার পায়ের পাতা এবং পায়ে আ’ঘাত করেন। এ সময় এএসআই আশেক এলাহী আকবরকে বলেন, রায়হান পু’লিশের সঙ্গে খা’রাপ ব্যবহার করেছে তার পায়ে মা’রেন। পায়ে মা’রলে সমস্যা নেই। তখন আকবর আমাকে ধমক দিয়ে সেন্ট্রি পোস্টে পাঠিয়ে দেন।

এরপর বেশ কয়েকবার রায়হানের চি’ৎকার শুনতে পাই। ভোর ৪টায় কনস্টেবল দেলোয়ারকে আমি ডিউটি বুঝিয়ে দিয়ে চলে যাই। সাইদুর আ’দালতকে বলেন, পরদিন দুপুর সাড়ে ১২টায় বন্দরবাজার ফাঁড়ির মুন্সি কনস্টেবল আমিনুল ডিসি স্যারের (এসএমপির উপকমিশনার উত্তর আজবাহার আলী শেখ) কথা বলে ফাঁড়িতে ডাকেন।

আসার পর আকবর স্যার বলেন, ‘সিনিয়র স্যাররা এলে বলবি, ফাঁড়িতে কোনো লোক এনে নি’র্যা’তন করা হয় নাই। সে (রায়হান) কাস্টঘর থেকে গণপি’টুনি খেয়ে ধ’রা পড়েছে। তাকে সরাসরি ওসমানী হাসপাতা’লে নেয়া হয়েছে।’ আমি যা বলছি তাই বলবি। আমা’র বুকে হাত দিয়ে আকবর স্যার হু’মকি দিয়ে আরও বলেন, ‘সত্য কথা বললে বুকে গু’লি করব, পিঠ দিয়ে বের হবে।’

সাইদুরের মতো একইভাবে এসআই আকবর কনস্টেবল দেলোয়ার হোসেনকেও হু’মকি দিয়েছেন বলে তিনি আ’দালতে দেয়া জবানব’ন্দিতে জানিয়েছেন। দেলোয়ার আ’দালতে বলেন, কনস্টেবল তৌহিদ ফাঁড়ির সেন্ট্রি পোস্টে তার সঙ্গে গল্প করছিল এ সময় আকবর স্যার তৌহিদকে ডেকে নেন। এরপর তৌহিদ এসে জানায়, আকবর স্যার তার মোবাইল নিয়ে রায়হানকে দিয়ে তার বাসায় কল দিয়ে ১০ হাজার টাকা নিয়ে ফাঁড়িতে আসতে বলেছেন। এরপর আকবর স্যার এএসআই আশেক এলাহীকে বলেন, আমি ঘুমিয়ে গেলাম। কিছুক্ষণ পর রায়হানকে হাসপাতা’লে নিয়ে যেও।

ফজরের আজানের পরপর রায়হানের চাচা এলে তাকে নিয়ে নামাজে যান এএসআই আশেক এলাহী। নামাজ থেকে এসে আশেক এলাহী রায়হানের চাচাকে বলেন, স্যার ঘুমিয়ে গেছেন আপনি সকাল ৯টার পর আসেন। সকাল ৬টা ২০ মিনিটের দিকে এএসআই আশেক এলাহী ও কনস্টেবল হারুন রায়হানকে ধরে বের করে নিয়ে আসেন এবং সিএনজি আটোরিকশায় তোলেন। তারা আমাকে জানান তাকে ওসমানী হাসপাতা’লে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আধা ঘণ্টা পর আকবর স্যার ঘুম থেকে উঠে তাড়াহুড়া করে ফাঁড়ি থেকে বেরিয়ে যান।

Advertisement
Advertisement

Check Also

গোসল করতে গিয়ে মিললো ক’ঙ্কাল, বাবা বললেন- ‘এইতো আমার মেয়ে’

Advertisement তিন মাস আগে নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নি’খোঁজ হন কলেজছাত্রী মিম খাতুন (১৮)। শনিবার সন্ধ্যায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!