রুপে পাগল করে যেভাবে ৩০ কোটি টাকা হা’তিয়ে নিল সুন্দরী জান্নাত! – OnlineCityNews

রুপে পাগল করে যেভাবে ৩০ কোটি টাকা হা’তিয়ে নিল সুন্দরী জান্নাত!

মাধ্যমিকের গণ্ডিও পেরোননি। কিন্তু তাঁর ক’থাবা’র্তা কিংবা চলা’ফে’রায় তা বো’ঝার উপায় নেই। সুন্দরী, চেহারা”তেও রয়েছে আ’ভিজা’ত্যের ছাপ। নিজের সেই সু’ন্দর চেহারা”কে পুঁজি করে ১১ বছর ধরে সংবাদপত্রে ‘পাত্র চাই’ বলে বি’জ্ঞাপন দিতেন।

এভাবে আগ্রহী পাত্রদের কাছ থেকে ৩০ কোটি টাকা নিয়েছিলেন বাংলাদেশি তরুণী সাদিয়া জান্নাত ওরফে জান্নাতুল ফেরদৌস। কিন্তু শে’ষ র’ক্ষা হল না। রাজধানী ঢাকার অ’ভিজাত গুলশান থেকে তাঁকে হাতেনাতে পাকড়াও করেছেন সিআইডির ত’দন্তকারীরা।

প্রতারক তরুণীর কাছ থেকে উ’দ্ধার করা হয়েছে প্র’তারিত ‘পাত্রদের’ একাধিক পাসপোর্ট, ১০টি মোবাইল ফোন, ৩টি মেমোরি কার্ড, ৭টি স্ট্যাম্প, অ’সংখ্য সিম ও প্র’তারণার মাধ্যমে আ’ত্মসাৎ করা টাকা বিভিন্ন ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার স্লিপ।

সিআইডি কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে জান্নাতুল ফেরদৌসের রোমহ’র্ষক প্র’তারণার কাহিনী জানিয়েছেন সিআইডির অ’তিরিক্ত ডিআইজি শেখ রেজাউল হায়দার। জান্নাতুল কী’ভাবে প্র’তারণা করতেন তা তুলে ধ’রেন তিনি।

তিনি জানান, ‘গত ৯ জুলাই দেশের একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, ‘প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী কানাডার নাগরিক, বিবাহবিচ্ছিনা, সন্তানহী’ন, বয়স ৩৭, ৫ফুট ৩ ইঞ্চি লম্বা পাত্রীর জন্য ব্যবসার দায়িত্ব নিতে আগ্রহী বয়স্ক পাত্র চাই।

যোগাযোগের জন্য ঠিকানা দেওয়া হয়, রাজধানীর অ’ভিজাত এলাকা বারিধারা। সঙ্গে একটি মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। বিজ্ঞাপন দেখে নাজির হোসেন নামে এক ব্যক্তি প্রতারক জান্নাতুলের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। গত ১২ জুলাই গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় প্রতারিতের সঙ্গে দেখা করেন প্র’তারক।

বিয়ের পর তাকে কানাডায় নিয়ে যাবে এবং সেখানে তার ২০০ কোটি টাকার ব্যবসা দেখভাল করবেন, জান্নাতুলের এসব কথায় বিশ্বা’স করে ভু’ক্তভো’গী প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও পাসপোর্ট তুলে দেন।

পরে প্র’তারক জান্নাতুল জানান, কানাডায় প্রচণ্ড শীত তাই সেখান থেকে তার ২০০ কোটি টাকা দেশে ফেরত নিয়ে আসবেন। পরে দেশেই ব্যবসা করবেন। ডিএইচএলের মাধ্যমে ওই টাকা ফেরত আনতে প্রতারিত নাজির হোসেনের কাছ থেকে বিভিন্ন দফায় ট্যাক্স/ভ্যাট/ডিএইচএল বিল বাবদ মোট ১ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে ফোন বন্ধ করে দেন জান্নাতুল ফেরদৌস।

অ’ভিযোগ পেয়েই ত’দন্ত শুরু করে দেন সিআইডি আধিকারিকরা। আর তাতেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। সিআইডির ত’দন্তকারীরা জানতে পারেন, ২০১০ সাল থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জনকে ফাঁ’দে ফেলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন জান্নাতুল।

বিজ্ঞাপনকে বিশ্বা’সযোগ্য করতে কখনও যোগাযোগের জন্য গুলশান আবার কখনও বারিধারার মতো অ’ভিজাত এলাকার কথা উল্লেখ করতেন। প্র’তারিতদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরেই ফোন ব’ন্ধ করে দিতেন প্র’তারক তরুণী।গো’পনে ফাঁ’দ পেতে গুলশান থেকে গ্রে’ফতার করা হয় জান্নাতুলকে।

সিআইডির অ’তিরিক্ত ডিআইজি জানিয়েছেন, প্র’তারক তরুণীর কাছ থেকে একটা হিসেবের খাতা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেই হিসেবের খাতায় ব্যাঙ্ক অফ এশিয়া সহ চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। সেখানে এক কোটি টাকা জমা রয়েছে।

হিসেবের খাতা বলছে, প্র’তারণার মাধ্যমে ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা হাতিয়েছে প্র’তারক। জেরায় জান্নাতুল জানিয়েছে, ‘প্রথম স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্সের পরে দ্বিতীয়বার বিয়ে করে। দ্বিতীয় স্বামীকে সঙ্গে নিয়েই এই প্র’তারণা চালিয়ে যাচ্ছিল।’ এই প্র’তারণা চক্রের সঙ্গে জ’ড়িত বাকিদের গ্রে’ফতার করার চে’ষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন সিআইডির অ’তিরিক্ত ডিআইজি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *