এবার যাদের জন্য গণপরিবহন চালুর প্রস্তাব – OnlineCityNews
Breaking News
Home / সারা দেশ / এবার যাদের জন্য গণপরিবহন চালুর প্রস্তাব

এবার যাদের জন্য গণপরিবহন চালুর প্রস্তাব

Advertisement

সাধারণ ছুটিতে জরুরি সেবার জন্য সড়ক, নৌ ও রেলপথে পণ্য পরিবহনে কোনো বাধা নেই। তবে দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলার আদেশ জারি হলেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের যাতায়াতের জন্য গণপরিবহন চালুর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ব্যবসায়ী, সাধারণ ক্রেতা, পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সীমিত আকারে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

বেসাম’রিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে উড়োজাহাজ পরিচালনা করতে চাইছে আগামী ৮ মে থেকে। গণপরিবহন চালু না হওয়ায় এয়ারলাইনস কম্পানিগুলো বিমান পরিচালনার বিষয়ে অনীহা দেখাচ্ছে।

এসব এয়ারলাইনস কম্পানির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, গণপরিবহন বন্ধ থাকলে যাত্রীরা এক জে’লা থেকে অন্য জে’লায় যেতে পারবে না। এসংক্রান্ত প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। এরপর নির্দেশনা এলে উড়োজাহাজ চালু করা হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মক’র্তাদের কাছ থেকে জানা গেছে, সরকারের নির্দেশনা পেলে আকাশ, সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীবাহী পরিবহন চালু করতে চাইছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ জন্য তাঁদের প্রস্তুতিও রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে অবশ্য এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহ্মুদ চৌধুরী বলেছেন, পণ্যবাহী নৌপরিবহন বন্ধ হয়নি। যাত্রীবাহী নৌপরিবহন সরকারের নির্দেশ পেলে চালু করা হবে। যাত্রীবাহী নৌপরিবহন চালুর ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জরুরি পণ্য সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে সেবা দিচ্ছে। যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর জন্য আমা’দের প্রস্তুতি আছে। সরকারের নির্দেশ পেলে আম’রা তা পালন করব।’

রাজধানীসহ সারা দেশে গত ২৬ মা’র্চ থেকে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি চলছে। এই ছুটি ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে গতকাল সোমবার। সাধারণ ছুটিতে সারা দেশ কার্যত ‘লকডাউন’ অবস্থায় থাকার কথা। প্রথম’দিকে ‘সব বন্ধ’ রেখে কঠোরভাবেই ‘ঘরব’ন্দি’ অবস্থা চলছিল। তবে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ‘অব’রুদ্ধ’ পরিস্থিতি কয়েক দিন ধরে ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে দিনমজুর, গৃহকর্মীসহ রোজ কাজের ওপর নির্ভরশীল মানুষ রাস্তায় বের হয়ে আসছে। তৈরি পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় পোশাককর্মীরা আইন পরিপন্থী হলেও পণ্যবাহী গাড়িতে কর্ম এলাকায় ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। রাতের আঁধারে সাধারণ যাত্রীদের একটি অংশ এক জে’লা থেকে অন্য জে’লায় যাচ্ছেন পণ্যবাহী গাড়িতে। সে কারণে সীমিত আকারে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালুর পক্ষে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা।

তাঁরা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে গণপরিবহন চালানো যায়। এ অবস্থায় গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ঈদুল ফিতরে দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল সংবাদ বি’জ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে, সাধারণ ছুটির সঙ্গে সংগতি রেখে গণপরিবহন বন্ধ থাকবে আগামী ১৬ মে পর্যন্ত। এদিকে একই দিন স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে দোকানপাট ও শপিং মল আগামী ১০ মে থেকে খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। দোকানপাট ও শপিং মল সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করতে হবে। বড় শপিং মলগুলোর প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শপিং মলে আগত যানবাহন অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

এ সরকারি আদেশ জারির পর ব্যবসায়ী নেতা ও ক্রেতারা বলছেন, সীমিত আকারে স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে দোকানপাট খুলে দেওয়া হলেও তাঁরা যাতায়াত করবেন কিভাবে? এ বিষয়ে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দোকানপাট শর্ত সাপেক্ষে খোলার এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমা’দের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। এটা নেওয়া হলে দুই দিন সময় নিয়ে আম’রা প্রস্তুতি নিতে পারতাম। অংশীজনদের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হতো। একদিকে লকডাউন রাখা হচ্ছে, অন্যদিকে যাত্রীবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ রেখে দোকানপাট খুলে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে অনেকে প্রশ্ন করছে। আমি মনে করি, ক্রেতাদের যদি দোকান ও শপিং সেন্টারে আসতে হয় তাহলে তাদের চলাচলের জন্য গাড়ি লাগবে।’

একই সঙ্গে যেসব দোকানে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যবস্থা করা হবে না সেসব দোকান ও শপিং সেন্টার পরিহার করার জন্য তিনি ক্রেতাদের অনুরোধ করেন। ঈদের কেনাকা’টার সময় ঢাকা মহানগরীতে সীমিত আকারে গণপরিবহন চালু করা উচিত বলে মনে করেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। তিনি এ প্রস্তাব তুলে ধরে বলেন, ‘সড়ক পরিবহন খাতে দিনে ক্ষতি হচ্ছে ৫০০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের সভাপতি মোহাম্ম’দ হানিফ (খোকন) বলেন, ‘সামাজিক দূরত্ব মেনে গণপরিবহন সীমিত আকারে চালুর জন্য আম’রা সরকারের কাছে দাবি জানাই। কারণ পরিবহন খাতের ৭০ লাখ শ্রমিক এখন পিষ্ট হয়ে গেছে অর্ধাহারে।’ বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘গণপরিবহন সীমিত আকারে চালু না করে পোশাক কারখানা ও দোকানপাট খোলা হবে আত্মঘাতী। সমন্বিত উদ্যোগ না থাকলে ফল আসে কম।’

Advertisement
Advertisement

Check Also

প্রে’মিক হারালেন তসলিমা নাসরিন!

Advertisement করো’নার কারণে লকডাউনে থাকা বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন প্রে’মিক হারিয়েছেন। এমনটি দাবি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!