গুলশানের ফ্ল্যাটে এখন একাই থাকেন ববিতা – OnlineCityNews

গুলশানের ফ্ল্যাটে এখন একাই থাকেন ববিতা

মানসিকভাবে কিছুটা অবসাদগ্রস্ত সত্যজিৎ রায়ের ‘অনঙ্গ বউ’। এমনিতে তিনি একা মানুষ। গুলশানের ফ্ল্যাটে একাই থাকেন। করো’না এই একাকিত্বকে আরেকটু বাড়িয়ে দিয়েছে। তার ওপর সম্প্রতি হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন নিকট স্বজনকে। প্রিয়জন হা’রানোর ব্যথায় কাতর ৬৬ বছর বয়সী এই অ’ভিনেত্রী।







ফোনের ওপারে তাঁর কণ্ঠে ঝরে সে ব্যথার সুর, ‘আমা’র চাচা-ফুফুদের পরিবার বেশ বড়। কাজিনদের পরিবারও কম না। চাচাতো বোনের ছে’লে, ফুফাতো বোনসহ আমা’র পরিবারের পাঁচ-ছয়জনকে কেড়ে নিয়েছে করো’না। ভাগ্নেটার বয়স সবে চল্লিশ। এটা কি মৃ’ত্যুর বয়স হলো? মনটা ভালো রাখি কী’ করে!’







মন খা’রাপের নেপথ্যে আরো অনেক কারণ। বড় বোন অ’ভিনেত্রী সুচন্দা করো’নায় আ’ট’কা পড়েছেন আ’মেরিকায়। তিন ভাই থাকেন তিন দেশে। আর একমাত্র ছে’লে অনিক কানাডায়। অবশ্য ছোট বোন অ’ভিনেত্রী চ’ম্পা ঢাকাতেই আছেন।







বলেন, ‘থাকলে কী’ হবে, দেখা-সাক্ষাৎ তো নেই কারো সঙ্গে। ফোনেই যা কতটুকু কথা। বছরে দুইবার ছে’লের কাছে গিয়ে বেড়িয়ে আসতাম। মে মাসে যাওয়ার কথা ছিল। করো’নার কারণে সেটাও পারিনি। ছে’লেটাকে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছি।







অনিক ওখানকার বড় চাকুরে। বাসায় বসেই এখন অফিস করছে। ও ওই দেশের নাগরিক। আমি তা নই। আগে ভ্রমণ ভিসায় যেতাম। এ পরিস্থিতিতে আমাকে ওই দেশে ঢুকতে দেবে বলে মনে হয় না। কবে অনুমতি পাব, সেটাও জানি না। করো’না যে কত দিন থাকবে, তারও তো নিশ্চয়তা নেই।’







করো’না থেকে নিজেকে রক্ষায় যা যা করা প্রয়োজন তার সবই করছেন দেশবরেণ্য এই অ’ভিনেত্রী। ‘প্রায় চার মাস স্বেচ্ছা ঘরব’ন্দি আছি। বাসায় দুজন গৃহপরিচারিকা আছেন। তবু বাসার কাজ নিজেই করি।







আমা’র ধারণা, আমি যতটা করো’না সচেতন, গৃহপরিচারিকারা হয়তো ততটা নন। শোবার ঘর ও বসার ঘরের সঙ্গে লাগোয়া যে ছাদখোলা বারান্দা, সেখানে রীতিমতো ক্ষেতখামা’রি করছি। নানা রকম ফুল-ফলের গাছও আছে। চাষ করছি শাকসবজিও।







দিনের বড় একটা সময় সেখানে ব্যস্ত থাকি। গাছে পানি দেওয়া, আগাছা সাফ করা। বাইরের শাকসবজি একেবারেই খাই না। লাল শাক, পুঁই শাক আমা’র বাগান থেকেই পাই।’







এ বিরুদ্ধ সময়টায় বাইরের কেউ তাঁর বাসায় আসছেন না। ইলেকট্রিশিয়ান, দারোয়ান কেউ না। কাঁচাবাজারের দরকার পড়লে দারোয়ানদের কেউ যায় সুপারশপে। দরজার সামনে বাজারের ব্যাগ রেখে গেলে পরে বাসায় এনে জীবাণুমুক্ত করে ব্যবহার করেন। মাছ-মাংস আনলে নিয়ম মেনে পানিতে ভিজিয়ে রাখেন দীর্ঘ সময়।







আন্তর্জাতিক খ্যাতি পাওয়া বাংলাদেশের এই অ’ভিনেত্রী কতটা সচেতন সেটা বোঝা গেল তাঁর কথায়, ‘ব্যাংক থেকে টাকা তুলে এনেই আলমা’রিতে ঢুকিয়ে রাখি না। আগে কড়া রোদে ভালোমতো রেখে দিই কয়েক ঘণ্টা। বলা তো যায় না কোন ফাঁকে।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *