Breaking News
Home / সারা দেশ / তাদের সম্বল এখন থালা বাটি কম্বল

তাদের সম্বল এখন থালা বাটি কম্বল

Advertisement
Advertisement

বহুল আলোচিত নাম সাহেদ, আরিফ, ডা. সাবরিনা ও পাপিয়া। প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়ে বিলাসী জীবন ছিল তাঁদের। ব্যবহার করতেন দামি গাড়ি। থাকতেন রাজকীয় ফ্ল্যাটে। এয়ারকন্ডিশনার ছাড়া জীবন ভাবতেই পারতেন না তাঁরা। সেই তাঁরা বর্তমানে তীব্র গরমের মধ্যে সাধারণ বন্দির জীবন কা’টাচ্ছেন কা’রাগারে। সেখানে তাঁদের সম্বল বলতে আছে কা’রাগার কর্তৃপক্ষের দেওয়া থালা, বাটি ও কম্বল।







প্রতারণা করে বিপুল বিত্ত গড়েন রিজেন্ট হাসপাতা’লের চেয়ারম্যান সাহেদ। করো’না পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণা ও অনৈ’তিক কর্মকা’ণ্ডের কারণে জেলে যেতে হয় তাঁকে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কা’রাগারে এখন তাঁর সম্বল একটি বালিশ, তিনটি কম্বল, থালা আর বাটি।







খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিরাপত্তার কারণে সাহেদকে রাখা হয়েছে একটি সেলে। কোনো দিন সকালে মিলছে খিচুড়ি, কোনো দিন গুড় দিয়ে রুটি। সাহেদ যে সেলে থাকেন, সেখানে একটি সিলিং ফ্যান রয়েছে। প্রচণ্ড গরমে সেই ফ্যানে খুব একটা কাজ হয় না। ফলে সারাক্ষণ হাঁসফাঁস করতে থাকেন সাহেদ। রাতের বেলায় সেলে একা থাকতে ভয় পান। এ কারণে তাঁর সেলের সামনে একজন কা’রারক্ষী দায়িত্ব পালন করেন। কা’রাগারে অনেকটা চুপচাপ থাকছেন তিনি।







একইভাবে করো’না পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণার দায়ে জেকেজির আরিফ এবং তাঁর স্ত্রী ডা. সাবরিনাও কা’রাগারে। আরিফকেও রাখা হয়েছে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কা’রাগারে। তবে তাঁকে রাখা হয়েছে অন্য বন্দির সঙ্গে সাধারণ সেলে। জানা গেছে, কা’রাগারে সাহেদের বিপরীত চিত্র আরিফের মধ্যে।







তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি করে অতিষ্ঠ করে তুলছেন অন্য বন্দিসহ কা’রারক্ষীদের। গরম সহ্য করতে না পেরে গালাগাল পর্যন্ত করছেন। নিজের বাড়ির মতো করে থাকতে চান কা’রাগারে। সম্ভব না হওয়ায় পাগলামো করছেন। কা’রাগারের নিয়ম-কানুন অমান্য করতে চান। দাপট দেখানোর চেষ্টা করেন। কা’রাগারের খাবার নিয়ে করেন চিৎকার-চেঁচামেচি। ফলে তাঁর সঙ্গে অন্য বন্দিরা থাকতে অনীহা প্রকাশ করছেন বলে জানা গেছে।







জানতে চাইলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কা’রাগারের জে’লার মাহাবুবুল ইস’লাম বলেন, ‘তাঁদের সাধারণ বন্দির মতোই রাখা হচ্ছে। বাড়তি কোনো সুবিধা দেওয়া হয়নি। উপায়ও নেই।’







ডা. সাবরিনাকে রাখা হয়েছে কাশিমপুরে মহিলা কা’রাগারে। গত ১২ জুলাই করো’নাভা’ইরাস পরীক্ষার ভুয়া প্রতিবেদন দেওয়ার মা’মলায় জোবেদা খাতুন সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার (জেকেজি হেলথকেয়ার) চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীকে গ্রে’প্তার করে পু’লিশ। সাবরিনা জাতীয় হৃদেরাগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতা’লের একজন নিবন্ধিত চিকিৎসক।







টাকার বিনিময়ে নমুনা সংগ্রহ ও ভুয়া প্রতিবেদন দেওয়ার অ’ভিযোগে তেজগাঁও বিভাগের পু’লিশ ডা. সাবরিনা, তাঁর স্বামী আরিফুল হক চৌধুরীসহ পাঁচজনকে গ্রে’প্তার করে।







খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিরাপত্তার কারণে কা’রাগারে সাবরিনাকে আলাদা সেলে রাখা হয়েছে। সেখানে তিনি চুপচাপই থাকেন। আয়েশি জীবনে অভ্যস্ত ড. সাবরিনাকেও কা’রাগারে ফ্লোরেই থাকতে হয়। স্বামীর মতোই একটি বালিশ, তিনটি কম্বল, থালা ও বাটি এখন তাঁর সম্বল। কা’রাগারের নিয়ম মতোই পান তিন বেলা খাবার।







প্রতারণা, অ’বৈধ অর্থ পা’চার, জাল টাকা সরবরাহ, মা’দক কারবার এবং অনৈ’তিক কাজে জড়িত থাকার অ’ভিযোগে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি নরসিংদী যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়াকে গ্রে’প্তার করে র‌্যাব। সেই থেকে কা’রাগারেই কাটছে তাঁর জীবন। তাঁকেও রাখা হয়েছে কাশিমপুর মহিলা কা’রাগারে।







পাপিয়া ছিলেন উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপনে অভ্যস্ত। তবে কা’রাগারে অনেক শান্ত থাকছেন তিনি। যে আচরণ তিনি বাইরে থাকতে করতেন, সে আচরণ সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে বলে কা’রা সূত্রে জানা গেছে। আলোচিত দুই নারী ডা. সাবরিনা ও পাপিয়া একই জেলে থাকলেও আলাদা সেলে থাকায় তাঁদের মধ্যে দেখা হয় না বলে জানা গেছে।







কাশিমপুর মহিলা কা’রাগারের জে’লার আনোয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, কা’রাবন্দিদের যে নিয়মে রাখা হয়, সেভাবেই সাবরিনা ও পাপিয়াকে রাখা হয়েছে। সুত্র: কালেরকন্ঠ






Advertisement
Advertisement

Check Also

স্বা’মীকে স্ব’প্নে দেখেই গ’র্ভবতী হয়ে পড়লেন গৃহ’বধূ

Advertisement এমন অনেক ঘটনা’র সাক্ষী আম’রা থাকি যেটা সম্পূ’র্ণ কাক’তালীয়। কী’ভাবে ঘটল এই ঘটনা তার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!