কেনো এই বাবার নামে মাজার বসিয়েছেন সেই মালেক ড্রাইভার? নতুন তথ্য ফাঁ’স – OnlineCityNews

কেনো এই বাবার নামে মাজার বসিয়েছেন সেই মালেক ড্রাইভার? নতুন তথ্য ফাঁ’স

আবদুল বারী। পেশাগত জীবনে ছিলেন সচিবালয়ের পিয়ন। ২০০৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর মা’রা যান তিনি। এরপর তার নামে টঙ্গীর কামারপাড়া এলাকায় একটি মাজার গড়ে তোলেন তারই সন্তান স্বাস্থ্য অধিদফতরের গাড়িচালক মো. আবদুল মালেক ওরফে বাদল।







মাজার শরীফের নাম দিয়েছেন শাহ সূফী আলহাজ আবদুল বারী মাইজভান্ডারী। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে তারা অভি’যো’গ করেন, জায়গাটি দ’খ’ল করে মাজার বানানো হয়েছে। আবদুল মালেকের ছেলের বিলাসবহুল জীবন সম্পর্কেও অভি’যো’গ রয়েছে স্থানীয়দের।







স্থানীয়রা জানান, আবদুল বারী মাইজভান্ডারী নামে কাউকে চিনতেন না তারা। আগে এখানে একটি ডেইরি ফার্ম ছিল। এটির দেখাশোনা করতেন আবদুল বারী নামে একজন। তিনি সচিবালয়ে পিয়নের চাকরি করতেন। তিনি মা’রা যাওয়ার পর হঠাৎ করেই এখানে গড়ে উঠেছে মাজার।







প্রথম দিকে কয়েকজন প্রতিবাদ করলেও পরবর্তী সময়ে ভ’য়’ভী’তি প্রদর্শন করায় আর কেউ কথা বলেননি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধুমাত্র বাবার নামেই নয়, বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন জায়গা দ’খ’ল করার জন্য নিজের ক্ষ’মতা ব্যবহার করতেন আবদুল মালেক।







তার সন্তান ইমন পড়াশোনা করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকা মেট্রো-ল ২০-৯৫৪৪ নম্বর প্লেটের একটি গাড়ি ছাড়াও বিভিন্ন সময় স্বাস্থ্য অধিদফতরের গাড়ি ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতো সে। র‍্যাব জানায়, অভি’যা’নের সময় মালেকের ছেলের ঘর থেকে ই’য়া’বা সে’বনের আনুষাঙ্গিক বিভিন্ন জিনিস পাওয়া যায়।







পেশায় গাড়ি চালক আবদুল মালেক স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের (শিক্ষা) গাড়ি চালানো ছিল তার দায়িত্ব। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের গাড়ির ড্রাইভার পদে আছেন। কিন্তু সেই গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতেন মো. আবদুল মালেক ওরফে বাদল।







ব্যক্তিগতভাবে তিনটি প্লটের মালিক এই আবদুল মা’লে’কের রাজধানীতে রয়েছে বিভিন্ন স্থানে একাধিক বাড়ি ও গাড়ি। ২০ সেপ্টেম্বর গ্রে’ফ’তার হওয়া আবদুল মালেক জিজ্ঞাসাবাদে নানা অ’প’ক’র্মের কথা স্বীকার করেছেন।







এদিকে দু’র্নী’তি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য অধিদফতরের গাড়িচালক মো. আবদুল মালেকের ঢাকায় সাতটি প্লটে চারটি বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন দুদক সচিব দিলোয়ার বখত।







তিনি বলেন, ‘কারও বি’রু’দ্ধে যদি জ্ঞাত’আয়ব’র্হি’ভূত সম্পদ পাওয়া যায় তাহলে তার বি’রু’দ্ধে অনুসন্ধান করা হয়। অনুসন্ধানে সম্পদ পাওয়া গেলে তার বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি কমিশনে যে সম্পদবিবরণী দাখিল করবেন সেটি পরে যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







এছাড়া প্রাথমিক অনুসন্ধানে মালেকের ঢাকায় সাতটি প্লটে চারটি বাড়ির সন্ধান পেয়েছে দুদক। তারা যদি সম্পদবিবরণী দাখিলে ব্যর্থ হয় তাহলে তাদের বি’রু’দ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর সম্পদের হিসাব মেলাতে না পারলে জ্ঞাতআয়বহির্ভূত মা’ম’লা হবে।’







স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, গাড়ি চালক আব্দুল মালেক দীর্ঘদিন ধরে অধিদফতরের বিভিন্ন বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। বিশেষ করে অধিদফতরের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য তার প্রধান কাজ। কোনো কর্মক’র্তা যদি আবদুল মালেকের সুপারিশ না শোনেন তাহলে তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করাসহ শারীরিকভাবে লা’ঞ্ছি’ত করার ঘটনা ঘটিয়েছেন একাধিকবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *