এবার যে শ্রেণী থেকে শিক্ষা ব্যবস্থা ডিজিটাল হবে

আগামী ৫ বছরের মধ্যে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে ডিজিটালে রূপান্তর সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেছেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব এবং এর পরবর্তী সময়ের জন্য বড় শক্তির নাম হচ্ছে মেধাসম্পদ তৈরি, উদ্ভাবন, গবেষণা এবং তার উন্নয়ন। এসব খাতে যে দেশ বা জাতি এগিয়ে যাবে তারাই চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে নেতৃত্ব দেবে। দক্ষ মানুষ ছাড়া ডিজিটাল বিপ্লব সম্ভব না।’







মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষই বড় সম্পদ। এই মানুষদের ডিজিটাল শিক্ষা ও ডিজিটাল দক্ষতার ওপর ভবিষ্যৎ নির্ভর করে। আমা’দের দেশের প্রতিটি ছেলে মেয়ে মেধাবী। এই সব সোনার টুকরো ছেলে-মেয়েদের মেধা উপযুক্ত শিক্ষা ও দক্ষতা দিয়ে কাজে লাগাতে পারলে বিশ্বে আমা’দের চেয়ে শক্তিশালী কেউ হবে না। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ ও ইন্ডাস্ট্রিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই বিষয়ে আরও সচেষ্ট হতে হবে। শিক্ষার ক্ষেত্রে আমা’দের ডিজিটাল রূপান্তর শুরু হয়ে গেছে।’







বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় (ডিআইইউ) আয়োজিত ডিজিটাল বাংলাদেশে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রভাব ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আয়োজিত ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তিতে ৩২৪ বছর পিছিয়ে থেকেও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের জন্য আম'রা প্রস্তুত। আম'রা ২০১৮ সালে ৫জি পরীক্ষা সম্পন্ন করেছি।







২০২৬ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি ঘরে ফাইভজি পৌঁছে দেয়ার পথনকশা ইতোমধ্যেই আম'রা সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি।’ তিনি দেশে শিক্ষা বিস্তারে গত ১১ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরে বলেন, ‘সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দেশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ অভাবনীয় কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তবে চকডাস্টারে পাঠদান পদ্ধতি থেকে ডিজিটাল পাঠদান পদ্ধতিতে উত্তরণের কাজ আম'রা শুরু করেছি মাত্র। এজন্য হয় তো কিছুটা সময় লাগবে।’







তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘৫ বছরের মধ্যে প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে ডিজিটালে রূপান্তর সম্ভব হবে। বিশ্বজুড়ে চলছে টেকনোলজি কোল্ড ওয়ার।’ মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘এই যুদ্ধে মানবসম্পদই বড় সম্পদ। কেননা মানুষ ছাড়া ডিজিটালাইজেশন সম্ভব হবে না।’ তাই দেশের তরুণদের উদ্ভাবন ও গবেষণা দিয়ে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে এগিয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।







‘অতীতে প্রযুক্তিতে অনেকটা পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কর্তৃক আইটিইউ ও ইউপিইউ-এর সদস্য পদ অর্জন, টিঅ্যান্ডটি বোর্ড গঠন এবং বেতবুনিয়ায় উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ডিজিটাল প্রযুক্তি বিকাশের বীজ বপন করা হয়। পঁচাত্তরের পর দীর্ঘ ২১ বছর প্রযুক্তি বিকাশের যাত্রা বন্ধ হয়ে যায়।







১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর অতীতের জঞ্জাল অপসারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে কম্পিউটার ও মোবাইলফোন জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ফলে দেশে ডিজিটাল প্রযুক্তির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। ২০০৯ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে সূচিত হয় ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এই সংগ্রামের নেপথ্য কারিগর হলেন সজীব আহমেদ ওয়াজেদ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!