রিফাত হ’ত্যার রায়ের আগ পর্যন্ত যেখানে থাকতে হবে মিন্নিকে

বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হ’ত্যা মা’মলায় উচ্চ আদালতের দেয়া জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নি’হত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে তার মনোনীত আইনজীবীর জিম্মায় দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মিন্নিকে তার মনোনীত আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুল বারী আসলামের জিম্মায় দেন বরগুনা জে’লা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান।







এর আগে পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী মিন্নিকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য উপস্থাপিত যুক্তি খণ্ডনের দিন ধার্য থাকায় সকাল ৯টার দিকে বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের সঙ্গে আদালতে আসেন আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। এছাড়াও কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয় এ মা’মলার কারাগারে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক আট আসামিকেও।







এরপর বেলা ১১টার দিকে বরগুনা জে’লা ও দায়রা জজ আদালতে মিন্নির পক্ষে উপস্থাপিত যুক্তি খণ্ডন শুরু করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। যুক্তি খণ্ডন শেষে উচ্চ আদালতের দেয়া মিন্নির জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মিন্নিকে নিজের জিম্মায় জামিনে রাখতে তার পক্ষে আদালতে আবেদন করেন মিন্নির আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুল বারী আসলাম।







এরপর এ আবেদন মঞ্জুর করে আদালত রায়ের আগ পর্যন্ত মিন্নিকে আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলামের জিম্মায় দেন।। একই সঙ্গে ১০ আসামির পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে হওয়ায় আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর এ মা’মলার রায়ের দিন ধার্য করেন আদালত।







এ বিষয়ে মিন্নির আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, এ মা’মলার যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ আদালতের দেয়া মিন্নির জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর মিন্নিকে আমা’র জিম্মায় জামিনে মুক্ত রাখার জন্য আবেদন করি। পরে আদালত এ আবেদন মঞ্জুর করে রায়ের আগ পর্যন্ত মিন্নিকে আমা’র জিম্মায় জামিন দেন।







আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর এ মা’মলার রায় ঘোষণার দিন মিন্নিকে আদালতে হাজির করা হবে বলেও জানান তিনি। গত বছরের ২৬ জুন রিফাত হ’ত্যাকা’ণ্ড সংগঠিত হয়। হ’ত্যাকা’ণ্ডের একদিন পর ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে বরগুনা সদর থা’নায় একটি হ’ত্যা মা’মলা দায়ের করেন নি’হত রিফাতের বাবা।







এ মা’মলায় মিন্নিকে প্রধান সাক্ষী করেন নি’হত রিফাতর বাবা দুলাল শরীফ। হ’ত্যাকা’ণ্ডের ২০ দিন পর গত বছরের ১৬ জুলাই মিন্নিকে তার বাবার বাসা থেকে বরগুনা পু’লিশ লাইন্সে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পু’লিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওইদিন রাতেই মিন্নিকে গ্রে’ফতার দেখায় পু’লিশ।







পরে গত বছরের ১৭ জুলাই মিন্নিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রি’মান্ড আবেদন করে পু’লিশ। পরে শুনানি শেষে আদালত মিন্নির পাঁচ দিনের রি’মান্ড মঞ্জুর করেন। পরে গত বছরের ২০ জুলাই পাঁচ দিনের রি’মান্ডের তৃতীয় দিনেই একই আদালতে রিফাত হ’ত্যাকা’ণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মিন্নি।







এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইস’লাম গাজী। এরপর টানা ৪৯ দিন কারাভোগের পর গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলার শর্তে উচ্চ আদালতের নির্দেশে বরগুনার কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হন মিন্নি। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকেই বাবা মো. মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের জিম্মায় বাবার বাড়িতেই রয়েছেন মিন্নি।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!