যে কাজ করে আজকে জাতিসংঘের ‘রিয়েল লাইফ হিরো’ আমাদের রূপসা চরের কিশোরী আঁখি – OnlineCityNews
Breaking News
Home / সারা দেশ / যে কাজ করে আজকে জাতিসংঘের ‘রিয়েল লাইফ হিরো’ আমাদের রূপসা চরের কিশোরী আঁখি

যে কাজ করে আজকে জাতিসংঘের ‘রিয়েল লাইফ হিরো’ আমাদের রূপসা চরের কিশোরী আঁখি

Advertisement
Advertisement

বিশ্ব মানবিক দিবস উপলক্ষে খুলনার রূপসা চরের কিশোরী আঁখিকে (১৭) জাতিসং’ঘ ‘রিয়েল লা’ইফ হিরো’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। করো’না মোকাবেলায় কম দামে মাস্ক তৈরি করে গরিব মানুষের কাছে বিক্রি করার কাজই তাকে এই স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। দারিদ্র্যের চরম কষাঘা’তে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া আঁখি এখন খুলনার গর্ব।

রূপসা চরের বস্তিতে বসবাসরত মাসুদ মোল্লা ও আনোয়ারা বেগমের দ্বিতীয় মেয়ে আঁখি। মাত্র ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করতে পেরেছে সে। আাঁখি বলে, যখন করো’নাভা’ইরাস শুরু হয়েছিল তখন বাজারে মাস্ক পাওয়া যাচ্ছিল না। কিছু কিছু দোকানে পাওয় গেলেও সেগু’লোর দাম ছিল অনেক।

আমা’দের এলাকার দরিদ্র মানুষ সেগু’লো কিনতে পারতো না। যখন জানলাম যে করো’না থেকে মুক্ত থাকতে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে তখন আমি নিজেই মাস্ক তৈরি করে কম দামে বিক্রি করার সি’দ্ধান্ত নিয়েছিলাম। যাতে এলাকার দরিদ্র মানুষ মাস্ক পরতে পারে। যাদের একদম টাকা পয়সা নেই তাদেরকে বিনামূল্যে আমা’র তৈরিকৃত মাস্ক দিয়েছি।

আঁখি জানায়, তার বাবা মাসুদ মোল্লা (৪৭) চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কাজ করতেন। সেখানে কর্মর’ত অবস্থায় তিনি দু’র্ঘটনার শিকার হন এবং শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন। মা আনোয়ারা বেগমও (৪০) চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কাজ করতেন। কিন্তু তার একার রোজগারে সংসার চালান অসম্ভব হয়ে ওঠে।

পঞ্চম শ্রেণি পাস করার পর মাকে সাহায্য করার জন্য সে তার বড় বোনের স’ঙ্গে একটা চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কাজে যোগ দেয়। ফলে তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। দুই বছর আগে ওয়ার্ল্ড ভিশন পরিচালিত জীবনের জন্য প্রকল্পের কর্মী আবেদা সুলতানা তাকে চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কাজ করতে দেখে সেখান থেকে নিয়ে তাকে স্কুলে ভর্তি করার উদ্যোগ নেন।

কিন্তু আঁখির বয়স বেশি হয়ে যাওয়ায় কোনো স্কুলে তাকে ভর্তি করানো যায়নি। অবশেষে আঁখির আগ্রহ দেখে ওয়ার্ল্ড ভিশন পরিচালিত জীবনের জন্য প্রকল্পের মাধ্যমে তাকে সেলাই প্র’শিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করেন তিনি। প্র’শিক্ষণ শেষে আঁখি যাতে তার নিজ ব্যবসা শুরু করতে পারে তার জন্য ওই প্রকল্প থেকে তাকে একটি সেলাই মেশিন ও কিছু থান কাপড় দেয়া হয়। শুরু হয় আঁখির পোশাক তৈরির ব্যবসা।

ঘরে বসেই এলাকার লোকজনের পোশাক সেলাই করে মাসে গড়ে ৩০০০ টাকা রোজগার করত সে। আঁখির এই রোজগারে তারি পরিবার সুখের মুখ দেখতে শুরু করে। আঁখি বলে, করো’নাভা’ইরাস যখন আমা’দের দেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, তখন সব কিছুই স্তব্ধ হয়ে যায়।

চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাও বন্ধ হয়ে যায় তাই আমা’র মা ও বোনের রোজগারও বন্ধ হয়ে যায়। আমিও আমা’র ছোট দোকানটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হই। ঘরে বসেই আমি আমা’র সেলাইয়ের কাজগু’লো করতে থাকি। ক্রেতা কমে যাওয়ায় আমা’র আয়ও কমে যায়।

এক সময় করো’নাভা’ইরাস মোকাবেলায় এলাকার গরিব মানুষ সাহায্য করার জন্য পোশাক সেলায়ের পাশাপাশি কাপড় দিয়ে মাস্ক তৈরি শুরু করি। সব সময় গরিব এবং অসহায়ের পাশে থাকার অ’ভিপ্রায় ব্যক্ত করে আঁখি বলে, গরিবকে সহায়তা করার জন্যই আজ আমি এতো বড় স্বীকৃতি পেয়েছি।

তাই সারাজীবন অসহায় ও গরিবের পাশে থাকবো। ভবি’ষ্যতে নিজের দোকানটাকে আরও বড় করে নিজের পরিবারের ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি আমা’র মতো মেয়েদের কাজ করার সুযোগ করে দেবো। গত ১৯ আগস্ট ২০২০ জাতিসং’ঘ বিশ্ব মানবিক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের চারজনকে ‘রিয়েল লা’ইফ হিরো’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এদের মধ্যে খুলনার রূপসা চরের কিশোরী আঁখি একজন।

Advertisement
Advertisement

Check Also

স্ত্রীর সঙ্গে রাত্রিযাপন করেন বন্ধু, স্বামী থাকেন পাশের রুমে

Advertisement রাত বাড়ছে। কিন্তু পুরুষ মানুষটির যাওয়ার নাম নেই। মনির বেশ বি’র’ক্ত লাগছে। ছোট্ট একটি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!