Home / সারা দেশ / যাদের নির্দেশে টানা ৮-৯ ঘণ্টা আম্মাকে চিকিৎসাই দেয়া হয়নি

যাদের নির্দেশে টানা ৮-৯ ঘণ্টা আম্মাকে চিকিৎসাই দেয়া হয়নি

Advertisement

২১ আগস্টের হা’মলায় নি’হত’দের অন্যতম আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমান। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী, বাংলদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রেসি’ডেন্ট সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপনের মা। ওই দিনের ঘটনা নিয়ে দুঃসহ স্মৃ'তিচারণ করেন পাপন। যা ফেসবুকে প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরি’য়ার আলম। পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাসটি তুলে ধ’রা হলো…

‘আমা’র সামনে তখন লা’শের স্তুপ, আম্মার কাছে যেতে হলে সেসব ডিঙিয়ে যেতে হবে, উপায় নাই যাওয়ার কোনো। আমি তখন দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বললাম, আম্মা তুমি চিন্তা কইরো না, আমি চলে আসছি। জানি না কেন যেন আম্মা মাথাটা নাড়লেন তখন, বুঝলাম যে উনি বেঁচে আছেন। ওখানে যারা ছিল, তাদেরকে জিজ্ঞেস করলাম যে এখন কী করতে হবে।

ওরা একটা লিস্ট দিয়ে বললেন, এক্ষুণি এই এই ওষুধগুলা লাগবে। আমি বললাম যে, ঠিক আছে, আপনাদের এখানেই তো ফার্মেসি আছে, তাই না? ওরা বললো যে না, হাসপাতা’লের ফার্মেসি বন্ধ। এটা আজকে আর খুলবে না। আশেপাশে অনেক ওষুধের দোকান, শত শত। সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, কোন ওষুধ পাবে না কেউ।

এরমধ্যে অবস্থার আরও অব’নতি হচ্ছে, কারণ র’ক্তক্ষরণ থামানো যাচ্ছে না। একজন এসে বললো, এই মুহূর্তে অপারেশন করতে হবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’ল ডাক্তারের অভাব নাই। আমি বললাম, তাড়াতাড়ি ডাকেন তাহলে। ওরা বললো, কাকে ডাকবো? কোনো ডাক্তার নাই। আম্মাকে যে একটু দেখবে, সার্জারি করবে, সেরকম একটা ডাক্তারও তখন নাই, সবাইকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। দেখতে দেখতে প্রায় ৩ ঘণ্টা চলে গেল।

আম'রা ঠিক করলাম, আম্মাকে এখান থেকে নিয়ে যেতে হবে। এমন একটা জায়গায় নিয়ে যেতে হবে, যেখানে আম্মা একটু চিকিৎসা পেতে পারে। অলরেডি এত র’ক্তক্ষরণ হয়েছে, কোনো রকমে আম্মাকে ধরে তুললাম, একটা অ্যাম্বুলেন্স জোগাড় করে সেটাতে ওঠালাম। পিজি হাসপাতা’লে নিয়ে যাবো। গেট দিয়ে বের হবো, এমন সময় চারদিক থেকে পু’লিশের বাধা, কোথায় নাকি যাওয়া যাবে না। আ’হত কাউকে কোথাও নিয়ে যাওয়া যাবে না! আমি বললাম, তাহলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন আপনারা। ডাক্তার আনেন, ওষুধ আনেন। ওরা বললো, ওপরের নির্দেশ, আম'রা কোথাও যেতে দিতে পারব না!

যাই হোক, তখন আমিও ফোনটোন করা শুরু করলাম। একটা পর্যায়ে তারা বললো, আম্মাকে শুধু সিএমএইচে আম'রা নিয়ে যেতে পারব, আর কোথাও না। ভেবে দেখলাম, এখানে তো কোন চিকিৎসাই হচ্ছে না, পানির মতো র’ক্ত বেরিয়ে যাচ্ছে শরীর থেকে। সিএমএইচ তো ভালো, ওখানে গেলে নিশ্চয়ই চিকিৎসা হবে।

এই কাহিনীগুলা বলার মতো না আসলে। ক্যান্টনমেন্টের গেটে বসিয়ে রাখলো একঘণ্টা, ঢুকতে দিবে না! সিএমএইচে যাওয়ার পর বলে, আর্মি অফিসারের রেকমেন্ডেশন লাগবে! আমা’র আম্মা ওখানে পড়ে আছে র’ক্তাক্ত অবস্থায়, মানুষটা মা’রা যাচ্ছে, এরকম অবস্থায় টানা ৮-৯টা ঘণ্টা আমা’র আম্মাকে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয় নাই।

২১ তারিখে গ্রেনেড হা’মলাটা হয়, ২৩ তারিখ রাত ১২টায় আমি সিএমএইচ থেকে বাসায় আসি। পরদিন থেকে ৪৮ বা ৭২ ঘণ্টার হরতাল, আওয়ামী লীগ ডেকেছিল। ঠিক রাত ২টার সময় আমাকে ফোন করা হলো, বললো খবর পেয়েছেন তো? আমি বললাম কী খবর? বললো, আপনার আম্মা তো মা’রা গেছেন। একটু আগে দেখে গেলাম মানুষটা বেঁচে আছেন, এর মধ্যেই ম’রে গেলেন! আমি বললাম, ঠিক আছে, আমি আসছি।

ফোনের ওপাশ থেকে বললো, এসে কোনো লাভ নাই, আম'রা দাফন করে দিচ্ছি। আমি বললাম, দাফন করবেন মানে? আমা’দের আত্মীয় স্বজন আছে, আমা’র আব্বা আছেন, সবাইকে জানাতে হবে, জানাজা পড়াতে হবে, কবর দেওয়া এগুলো আম'রা করব। ওরা বললো যে, না ওপরের নির্দেশ, সব এখানেই করতে হবে! লা’শ বাইরে নেওয়া যাবে না! কিসের মধ্যে দিয়ে যে গেছি আমি, আজ পর্যন্ত এগুলা কাউকে বলি নাই।

কী বলব বলেন? এত কিছু করার পরেও, মানুষের মধ্যে তো মনুষ্যত্ববোধ বলে একটা জিনিস থাকে। এরা কী রাজনীতি করে? বো’মা হা’মলা করলো, শত শত মানুষ আ’হত-নিহ’ত, তাদের চিকিৎসাটাও করতে দিলো না! লা’শও নাকি দিবে না! এটা কিসের রাজনীতি রে ভাই?

Advertisement
Advertisement

Check Also

আর ভ্যান চালাবে না শিশু শম্পা, পরিবারের সব দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

Advertisement জামালপুরে ভ্যা’নচালক শি’শু শম্পার অ’সুস্থ বাবা’র চিকি’ৎসা ও তার প’রিবারের সব দায়িত্ব নিয়ে’ছেন প্রধানমন্ত্রী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!