Breaking News
Home / সারা দেশ / চার হাত-পা বিহীন সম্রাটের চোখে পানি চলে আসা জীবন যুদ্ধের গল্প

চার হাত-পা বিহীন সম্রাটের চোখে পানি চলে আসা জীবন যুদ্ধের গল্প

Advertisement

‘দিনমজুরের ঘরে আমা’র জন্ম। জন্মের পর চার হাত-পা নেই দেখে বাবা-মা ছাড়া সবাই আমাকে নিয়ে নানান মন্তব্য করতো, শুনেছি বাবার মুখে!’ অভাবের সংসারে বাবা-মায়ের প্রথম সন্তান। চার হাত-পা না থাকলেও এখন ঢাকায় রিকশা চালিয়ে জীবনের ঘানি টানছেন ১৭ বছর বয়সী সম্রাট। জামালপুর জে’লার ইস’লামপুর থা’নাধীন জন্ম তার। রামভদরা গ্রামের মো. বজলু আকনের ছেলে সম্রাট।

Advertisement

বলছিলেন, আল্লাহ আমাকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছে চার হাত-পা ছাড়াই। বাবা-মা কখনো আমাকে নিয়ে নিরাশ ‘হতেন না, অন্যের কথায় কান না দিয়ে অন্যের খেতে দিন মজুরির কাজ করতেন। আমি আস্তে আস্তে বড় ‘হতে থাকলাম…। ‘বয়স আমা’র যখন সাত বছর তখন অভাবের তাড়নায় বাবা-মা’র আমাকে নিয়ে কোনোভাবেই গ্রামে থাকা সম্ভব ছিল না, তাই চলে আসে রাজধানী ঢাকায়। ’

সম্রাট বলেন, ঢাকায় এসে উঠলাম মিরপুর ইস্টার্ন হাউসিং তালতলা এলাকায়। বাবা প্রথমে একটা গরুর ফার্মের কাজ নিলেন খুব সামান্য বেতনে, তার কিছুদিন পরেই এখানে একটি স্কুলে আমাকে ভর্তি করান। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছিলাম ওই স্কুলে। তারপরে অভাবের তাড়নায় আর পড়াশুনা করার সৌভাগ্য আমা’র জীবনে হলো না!

‘এরমধ্যে বাবার চাকরিটাও চলে যায়। তারপর আমর’া সবাই দিশেহারা হয়ে পড়ি, একদিন না পেরে বাবা রিক্সা চালাতে বেরিয়ে যায়। তার কিছুদিনের মধ্যেই মাকেও অন্যের বাসায় কাজ করতে হয়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাড়ভা’ঙ্গা পরিশ্রম করে আমা’দের সংসার চালাতেন বাবা-মা। তখন আমা’দের ঘরে খাওনের লোক ছিল পাঁচজন, আমর’া তিন ভাই বোন ও বাবা-মা।’

এরপর কথা হলো সম্রাটের বাবার স’ঙ্গে, তিনি জানালেন সংগ্রামী ও আ’ত্মপ্রত্যয়ী ছেলের জীবনের গল্প। সম্রাটের বাবা বজলু আকন বাংলানিউজকে বলেন, অভাবের সংসারে তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে ঢাকা শহরে অনেক কষ্ট করে বেঁচে আছি। সম্রাট কিভাবে চার হাত-পা না থাকার পরেও রিকশা চালাতে নামলো রাজধানীতে- এমন প্রশ্নের জবাবে সম্রাটের বাবা বলেন, আমি যখন রিকশা চালিয়ে এসে বাসায় রেখে দিতাম তখন ও আস্তে আস্তে করে নিজেই কিভাবে রিক্সা চালানো শিখে ফেলেছিল।

‘একদিন আমাকে বলে আমি রিকশা চালাতে চাই। তোমা’র ও মা’র কষ্টের পাশাপাশি আমিও কিছু সহযোগিতা করতে চাই! তুমি আমাকে একটা রিকশা কিনে দাও বাবা! না হয় ভাড়া নিয়ে দাও তখন আমি ওকে ধমক দিয়ে বলি, তোর চার হাত-পা নাই, তুই কিভাবে রিক্সা চালাবি, রিক্সা চালানো কি এত সহজ? কিভাবে তুই রিক্সা চালাবি? তখন ও আমাকে বলে তুমি যখন ভাত খেতে বসতে ঘরে এই ফাঁ’কে আমি তোমা’র রিকশা নিয়ে আস্তে আস্তে চালানো শিখে ফেলেছি। ’

সম্রাটের বাবার ভাষ্য- আমি নিজেই শুনে অবাক হয়ে বললাম, তুই আজ থেকে ঘর থেকে বের হবি না। তোর কোন কাজ করতে হবে না। আমি ও তোর মা এখনো বেঁচে আছি না! তারপর আমি ওকে আর আমা’র রিকশা ধরতে দেয়নি। কিন্তু ও কিভাবে কিভাবে পাশের গ্যারেজে গিয়ে নিজেই রিক্সা ভাড়া করে নিয়ে আমাকে চুরি করে এই রাজধানী শহরে রিকশা চালানো শুরু করে।

‘একদিন কিছু টাকা এনে আমাকে দিয়ে বলে- বাবা এই নাও আমা’র প্রথম ইনকামের টাকা, তুমি বাজার করো’! আমি বললাম তুই টাকা কোথায় পেয়েছিস? চুরি করেছিস না ভিক্ষা করেছিস? ও আমাকে বলে- বাবা আমি ভিক্ষা করি নাই, চুরিও করি নাই। আমি ওই গ্যারেজ থেকে রিকশা নিয়ে রিকশা চালিয়ে কষ্ট করে টাকা উপার্জন করেছি!’

এরপর থেকে একই রিক্সা সম্রাট ও আমি দুইজনে মিলে রাজধানীতে চালাচ্ছি, বলেন সম্রাটের বাবা। সম্রাট বলেন, এই শহরে রিকশা চালাতে আমা’র কোনো সমস্যা হয় না। তবে অনেক সময় কিছু যাত্রী আমা’র রিক্সায় উঠতে চায় না, ভ’য় পায়। আমা’র চার হাত পা নাই দেখে। আবার অনেক সময় পু’লিশের নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন ‘হতে হয়।

তিনি বলেন, সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা ঘর ভাড়া, সংসারে খরচ ও আমা’র মেঝ বোনটা নানাবাড়ি থেকে পড়াশুনা করে। এই খরচ সব মিলিয়ে আমা’দের অনেক কষ্ট করতে হয়! ‘আমা’দের স্বপ্ন অন্যের কাছে হাত না পেতে নিজে কষ্ট করে টাকা উপার্জন করে গ্রামের বাড়িতে জমি কিনে ঘর করা। ঘর করার মতো টাকা আয় করতে পারলেই আমর’া ঢাকা ছেড়ে চলে যাব’ আমা’র জন্মভূমিতে। ’

জীবনযু’দ্ধে জয়ী সম্রাট জানান, কারো কাছে হাত পেতে বা করুণার পাত্র হয়ে আমি সম্রাট বেঁচে থাকতে চাই না। আমি নিজের মত কষ্ট করে শুধু নামে নয়, কামেও সম্রাট হয়ে আমা’র গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাব’ো ইনশাআল্লাহ। সবাই আমা’র জন্য দোয়া করবেন।

Advertisement
Advertisement

Check Also

বাউল রিতাকে ধরতে পরোয়ানা জারি

Advertisement পালা গানে মহান আল্লাহকে নিয়ে কটুক্তির অ’ভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মা’মলায় বাউল শিল্পী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!