গোটা বিশ্বকে করোনার ভ্যাকসিন তৈরির আশা দেখাচ্ছেন যিনি, পড়ুন… – OnlineCityNews
Breaking News
Home / করোনা নিউজ / গোটা বিশ্বকে করোনার ভ্যাকসিন তৈরির আশা দেখাচ্ছেন যিনি, পড়ুন…

গোটা বিশ্বকে করোনার ভ্যাকসিন তৈরির আশা দেখাচ্ছেন যিনি, পড়ুন…

Advertisement
Advertisement

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করো’নাভাই’রাসের বি’রুদ্ধে একটা দীর্ঘ ল’ড়াই শুরু করেছিলেন। এখনও একই ছন্দে, একই উদ্যমে সেই ল’ড়াই জারি রেখেছেন তিনি। লক্ষ্য একটাই এই বিশ্বকে করো’নামুক্ত করতে চান। অক্সফোর্ডের চ্যাডক্স ভ্যাকসিনের নাম এখন আম’রা সবাই জানি। কিন্তু মানুষের হিতার্থে যিনি এখনও ভ্যাকসিনের ক্লিনিকাল ট্রায়ালের ল’ড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁর নাম জানি কি? তিনি ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ড. সারাহ গিলবার্ট।

করো’নার ঝড়ে এখনও বি’ধ্বস্ত বিশ্ব। শুক্রবার অবধি এই ভাই’রাসে আ’ক্রান্ত হয়েছে দেড় কোটিরও বেশি মানুষ। কোভিড থাবায় মৃ’ত্যু হয়েছে ৬ লক্ষ ৩০ হাজারের। সংখ্যা এখনও উর্ধ্বমুখী। সেই সংখ্যায় যতবার দেখেছেন এই মহিলা বিজ্ঞানী, ততবারই হার না মানা উদ্যোগ নিয়ে ভ্যাকসিন প্রস্তুতের ল’ড়াইয়ে নিজের সব ভাবনা উজার করে দেন সারাহ গিলবার্ট।

তিনি একাধারে বিখ্যাত বিজ্ঞানী, অন্যদিকে তিন সন্তানের জননীও। ঘর সামলে বিজ্ঞানের কাজে মনোনিবেশ করেন নিপুণ দক্ষতায়। খুব ভালো বাঁশি (ওবয়ে) বাজান সারাহ। গাড়ি নয় সাইকেল চালিয়েই কর্মক্ষেত্রে যান বিজ্ঞানী। বিশ্বের বিজ্ঞানমহলে সারাহ গিলবার্ট খ্যাত একজন ‘ব্রিলিয়ান্ট ভ্যাকসিনোলজিস্ট’ হিসেবে। করো’না আবহে যে ভ্যাকসিনের দিকে চাতকের মতো চেয়ে আছে বিশ্ব, সেখানে তাঁর তৈরি চ্যাডক্স ভ্যাকসিনই এই মুহুর্তে নজর কাড়ছে দুনিয়ার।

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই ভ্যাকসিনের প্রাথমিক ক্লিনিকাল ট্রায়াল কতটা সফল তা ২০ জুলাই প্রকাশিত হয়েছে ল্যানসেট জার্নালে। সেই প্রতিবেদনের সহ-লেখক সারাহ গিলবার্ট। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, “এই ভ্যাকসিনটি সুরক্ষার ক্ষেত্রে উপযোগী। যেমন প্রয়োজন সেই মতো দেহে অ্যান্টিবডিও তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে। এর অর্থ হল মানবদেহে এই ভ্যাকসিন রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে পুনরুদ্ধার করতে পারছে এবং এটি মানব শরীরের জন্য সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।”

বিশ্বের ভ্যাকসিনোলজিস্টদের মধ্যে অন্যতম হলেন ড: সারাহ গিলবার্ট। ব্রিটেনের বিখ্যাত ভ্যাকসিন রিসার্চ সেন্টার অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনের ইনস্টিটিউটের ভ্যাকসিনোলজিস্টের প্রফেসর তিনি। বিভিন্ন সংক্রামিত ব্যাধি এবং ক্যানসারের বি’রুদ্ধে ইমিউনোথেরাপি প্রোডাক্টও তৈরি করেছেন। প্রায় ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে মানবদেহে টি সেল-কে কী’ভাবে বৃদ্ধি করা যায় সেই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন সারাহ।

টি-সেল হল এক ধরণের শ্বেতর’ক্তকণিকা, যা মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। এছাড়াও ম্যালেরিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা, টিউবারকিউলোসিসের মতো রোগের বি’রুদ্ধে কী’ভাবে কাজ করান যেতে পারে টি সেলকে সেই বিষয়টি নিয়েও কাজ করেন এই মহিলা বিজ্ঞানী। লাসসা, নিপাহ, মা’র্স (মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম) ভাই’রাসের বি’রুদ্ধে ভ্যাকসিন তৈরিতে নিজের দক্ষতা বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছিলেন ড. সারাহ।

তিনি বিখ্যাত তাঁর কাজে। কর্মকেই জীবনের মূলমন্ত্র করেছেন। প্রচার বিমুখ থাকতে চান বলেই অক্সফোর্ড ভ্যাকসিনের সাফল্যর খবর নিয়ে মুখ খুলতে দেখা যায়নি তাঁকে। নর্দাম্পশায়ারের কে’টেরিং গার্লস হাই স্কুলের একদা এই ছা’ত্রী নম্র, শান্ত এবং অসম্ভব মেধাবী ছিলেন ছোটবেলা থেকে। আর পরিবার ছিল মিউজিকের প্রতি নিবেদিত প্রা’ণ। লন্ডনের অ’পেরা সোসাইটির সঙ্গে যু’ক্ত ছিল সারাহ পরিবারের অনেকেই।

১৭ বছর বয়সেই সারাহ ঠিক করে নেন তিনি মেডিকাল রিসার্চার হবেন। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। গ্র্যাডুয়েশন, পিএইচডি শেষ করে বায়োটেকনোলজির একাধিক সংস্থায় কাজ করেন। ডেলটা সংস্থায় কাজ করতে গিয়ে শেখেন ওষুধ তৈরির কাজ। এরপর ধীরে ধীরে চলে আসে ভ্যাকসিন তৈরির ক্ষেত্রে। সংক্রামিত ব্যাধির থেকে বিশ্বকে বাঁ’চানোর লক্ষ্যে এগিয়ে চলেন ড. সারাহ গিলবার্ট।

উত্তর দিতে গিয়ে বেশ সতর্ক ছিলেন ড. সারাহ গিলবার্ট। তবে আশার আলোয় উজ্জ্বল ছিল মুখ। সংবাদসংস্থা বিবিসিকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে সারাহ বলেন, ‘কেউই একেবারে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারে না এই ক্লিনিকাল ট্রায়ালের মধ্যে। আমিও পারি না। তবে সম্ভাবনা রয়েছে এই বছরেই ভ্যাকসিন পেয়ে যাওয়ার। তবে সম্ভাবনাকে কোনও নিশ্চিত এটা বলা যায় না।’ সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

Advertisement
Advertisement

Check Also

দীপু মনি করোনা আক্রান্ত!

Advertisement Advertisement করো’নাভা’ইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। রোববার (৬ ডিসেম্বর) রাতে তিনি করো’না …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!