শাহেদ-সাবরিনার গোপন সম্পর্ক নিয়ে বেরিয়ে এলো যে সব চাঞ্চল্যকর তথ্য – OnlineCityNews

শাহেদ-সাবরিনার গোপন সম্পর্ক নিয়ে বেরিয়ে এলো যে সব চাঞ্চল্যকর তথ্য

রি’জেন্ট হাসপাতা’লের চে’য়ারম্যান মো’হাম্মদ শা’হেদের সঙ্গে জে’কেজি’র চে’য়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌ’ধুরীর ঘ’নিষ্ঠতা ছিল। তারা একে অ’পরকে আ’গে থেকেই চিনতেন। নিয়মিত পা’র্টিতে অংশ নিতেন। সেই পা’র্টিতে চলতো ডিজে-মাদকতা।শাহেদ-সাবরিনা ছাড়া সেই পার্টিতে স’মাজের আরো অনেক চেনামুখ অংশ নিতেন। গোয়েন্দা কর্মক’র্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে শাহেদ ও সাবরিনা একে অ’পরকে জানাশুনার কথা অ’কপটে স্বীকার করেছেন। দিয়েছেন আরো অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। করো’না সনদ জালিয়াতির আইডিয়া শাহেদের কাছ থেকে পেয়েছেন সা’বরিনা।স্বা’স্থ্য অধিদপ্তর থেকে কাজ ভা’গিয়ে নিতে ব্যবহার করেছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সরকারদলীয় চিকিৎসক সংগঠনের একাধিক চিকিৎসককে। এ ছাড়া এক ব্যবসায়ীর হোটেল জো’রপূর্বক দখল করে ব্যবসা করতেন শাহেদ। করো’নাকালে দখল করা সেই হোটেলটি সরকারকে দিয়েছিলেন।

তাই তিনি ওই রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে যেতেন। সেখানে শাহেদের সঙ্গে তার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা। শাহেদের দখল করা হোটেলের উপরে আবাসিক ব্যবস্থা ছিল। তাই প্রায়ই সেখানে আমোদ ফুর্তি ও মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করা হতো। বিত্তশালীদের আনাগোনা ছিল বেশ। সাবরিনা প্রায়ই এসব পার্টিতে অংশ নিতেন। এরপর থেকে তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হতো। পু’লিশ জানিয়েছে, শাহেদ কিছুদিন হোটেলটি তার কব্জায় রেখে পরিচালনা করেছেন।কিন্তু করো’না পরিস্থিতিতে ওই হোটেলটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে দেন। শাহেদের মালিকানাধীন রিজেন্ট হাসপাতা’লটি ছিল করো’না ডেডিকে’টেড। তাই সেখানকার চিকিৎসক-নার্সদের সেখানেই রাখা হতো। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জোরপূর্বক দখল করে নেওয়াতে হোটেলের মূল মালিক উত্তরা পূর্ব থা’নায় শাহেদের বি’রুদ্ধে একটি মা’মলাও করেছিলেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পু’লিশের বিমানবন্দর জোনের সহকারী কমিশনার খন্দকার রেজাউল হাসান মানবজমিনকে বলেন, শাহেদ হোটেলের মূল মালিককে বিতাড়িত করে দখল করে নেয়। করো’নাকালে ওই হোটেলটি সরকারকে দিয়ে দেয়। হোটেলটিতে চিকিৎসক-নার্সরা থাকতেন। শুনেছি করো’নার জন্য হোটেল বরাদ্দ দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে টাকা নিয়েছে। তবে আসলেই টাকা তুলেছে কিনা সেটি জানি না। বর্তমানে হোটেলটিতে খাবার ও আবাসিক কোনো ব্যবস্থাই চালু নাই বলে জানান তিনি।রি’মান্ডে সাবরিনার চাঞ্চল্যকর তথ্য: এদিকে রি’মান্ডে ডা. সাবরিনা চৌধুরী ও তার স্বামী আরিফ চৌধুরী প্রথম দিকে মুখ না খুলে একে অ’পরকে দোষারোপ করেছেন। কিন্তু গোয়েন্দা পু’লিশের কৌশলী জিজ্ঞাসাবাদে এখন তারা মুখ খোলা শুরু করেছেন। একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে যাচ্ছেন তারা। তারা তাদের সকল অপকর্মের কথা স্বীকার করেছেন। এসব অপকর্মের জন্য কিছুটা অনুশোচনাবোধও হচ্ছে তাদের।

ডিবি’র জেরার মুখে সাবরিনা ও আরিফ তাদের সহযোগীদের নাম জানিয়েছেন। কারা তাদের কীভাবে সহযোগিতা করেছেন। বিনিময়ে তাদেরকে কি দিতে হয়েছে। ডিবি’র ত’দন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে সাবরিনা ও আরিফ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের বর্তমান ও সাবেক মিলিয়ে অন্তত আটজন কর্মক’র্তার নাম বলেছেন।ডিবি’র ত’দন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদে সাবরিনা জানিয়েছে, ওভাল গ্রুপের মাধ্যমে তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের অনেক কাজ আগে থেকেই করতো। চিকিৎসক নেতাদের মাধ্যমে তারা সেই কাজ পেয়েছিলো। আরিফ সেসব কাজ পরিচালনা করলেও সাবরিনা কাজ পাবার ব্যবস্থা করতো।

এ ভাবে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের অনেক শীর্ষ কর্মক’র্তার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়। এজন্য করো’না পরিস্থিতিতে নমুনা সংগ্রহের আইডিয়া পাবার পর তারা খুব সহজেই কোনো রকম কাগজপত্র, ট্রেড লাইসেন্স ও অফিস ছাড়া কাজ বাগিয়ে নেয়।ত’দন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ডা. সাবরিনা ও তার স্বামী আরিফের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের সহযোগী ও মদতদাতাদের সম্পৃক্ততা নিয়ে ত’দন্ত করা হবে। করো’নার মতো জটিল পরিস্থিতিতে তারা মানুষের জীবন নিয়ে খেলেছে।জাল সনদ দিয়ে মানুষের কাছ থেকে প্রতারণা করে টাকা নিয়েছে। তাই এধরনের কাজে যারা যারা জড়িত তাদের প্রত্যেকের বি’রুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করা হবে। এর বাইরে ওভাল গ্রুপের কিছু পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জেকেজিতে চাকরি করতো এমন কয়েকজন পলাতক আছে। তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মহানগর গোয়েন্দা পু’লিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম মানবজমিনকে বলেন, সাবরিনা ও আরিফের মদতদাতা একাধিক ব্যক্তির নাম জানতে পেরেছি। তারা নিজেরাই এসব নাম বলেছে। এদের মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের একাধিক কর্মক’র্তা রয়েছেন। চিকিৎসক নেতাও আছেন। তাদের দেয়া নামগুলো নিয়ে এখন আম'রা যাচাই বাছাই করে দেখছি আসলেই তাদের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কিনা।যদি আমা’দের ত’দন্তে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় তবে আম'রা তাদের বি’রুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করবো। তিনি বলেন, সাবরিনা ও আরিফ তাদের সমস্ত অ’প’রাধ স্বীকার করেছে। তারা এও বলেছে প্রতারণা থেকে প্রাপ্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মক’র্তাদের দিতে হয়েছে। আম'রা তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হতভম্ব হয়ে যাচ্ছি। রিজেন্ট ও জেকেজি’র এই ঘটনা যদি ধ’রা না পড়তো তবে বুঝতেই পারতাম না স্বাস্থ্য সেক্টরের এমন অবস্থা।

ওদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পু’লিশের (ডিএমপি) অ’তিরিক্ত পু’লিশ কমিশনার (ডিবি) মো. আবদুল বাতেন শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে বলেছেন, জেকেজি হেলথ কেয়ার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে কাজ পাবার জন্য ব্যবহার করেছে ডা. সাবরিনা চৌধুরীর ফেসভ্যালু।জেকেজি জালিয়াতির প্রধান অস্ত্র ছিল সাবরিনা। অধিদপ্তরে তার ফেসভ্যালু ব্যবহার করে জালিয়াতি ও নানা ধরনের কাজ বাগিয়ে নিয়েছে। তবে এসব কাজ সে একা একা আনা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কর্মক’র্তার সহযোগিতা প্রয়োজন হয়েছে। মা’মলার সুষ্ঠু ত’দন্তের জন্য আম'রা একে একে সবাইকে ডাকবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *