Breaking News
Home / বিনোদন / আর নেই সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর, পূরণ করা হচ্ছে তার শেষ ইচ্ছা!

আর নেই সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর, পূরণ করা হচ্ছে তার শেষ ইচ্ছা!

Advertisement

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর মা’রা গেছেন। আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরীর মহিষবাথান এলাকায় তার বোন ডা. শিখা বিশ্বাসের বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃ’ত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।

এর আগে শরীরে নানা ধরনের জটিলতা নিয়ে অ’সুস্থ অবস্থায় গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যান এই সংগীতশিল্পী। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ১৮ সেপ্টেম্বর তার শরীরে নন-হজকিন লিম্ফোমা নামক ব্লাড ক্যানসার ধ’রা পড়ে।

এরপর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতা’লের চিকিৎসক লিম সুন থাইয়ের অধীনে তার চিকিৎসা শুরু হয়। সেখানে দীর্ঘ নয় মাস চিকিৎসা শেষে গত ১১ জুন দেশে ফেরেন তিনি। পরে রাজধানীর মিরপুরের বাসায় কয়েকদিন থাকার পর নিরিবিলি সময় কা’টানোর জন্য গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে যান।

গত কয়েকদিন ধরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে তার। তাকে অক্সিজেন সা’পোর্ট দেয়া হয়।  সোমবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের ডা. প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাস এ তথ্য দেন। এর আগে এন্ড্রু কিশোর মা’রা গেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়লে সে রাতেই তার স্ত্রী লিপিকা স্ট্যাটাস দেন।

সেখানে তিনি এন্ড্রু কিশোরের শারীরিক অবস্থার উল্লেখ করে লিখেছিলেন, ‘এখন কিশোর কোনো কথা বলে না। চুপচাপ চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকে। আমি বলি কি ভাব, বলে কিছু না, পুরানো কথা মনে পড়ে আর ঈশ্বরকে বলি আমাকে তাড়াতাড়ি নিয়ে যাও, বেশি কষ্ট দিও না। ক্যান্সারের শেষ ধাপে খুব যন্ত্রণাদায়ক। এন্ড্রু কিশোরের জন্য সবাই প্রাণ খুলে দোয়া করবেন, যেন কম কষ্ট পায় এবং একটু শান্তিতে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে যেতে পারে।’

এন্ড্রু কিশোরের চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৭ সালে আলম খান সুরারোপিত মেইল ট্রেন চলচ্চিত্রের ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানের মধ্য দিয়ে। তার রেকর্ডকৃত দ্বিতীয় গান বাদল রহমান পরিচালিত এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী চলচ্চিত্রের ‘ধুম ধাড়াক্কা’।

তবে এ জে মিন্টু পরিচালিত ১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রতীজ্ঞা চলচ্চিত্রের ‘এক চোর যায় চলে’ গানে প্রথম দর্শক তার গান শুনে এবং গানটি জনপ্রিয়তা লাভ করে। এরপর আর চলচ্চিত্রের গানের জন্য পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে উঠেন বাংলা চলচ্চিডত্রের প্লেব্যাক সম্রাট।

এন্ড্রু কিশোরের খুব জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমা’রে’, ‘আমা’র সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমা’র বুকের মধ্যে খানে’, ‘আমা’র বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান’, ‘ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’, ‘পড়ে না চোখের পলক’, ‘পদ্মপাতার পানি’, ‘ওগো বিদেশিনী’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’, ‘আমি চিরকাল প্রেমের কাঙাল’ প্রভৃতি।

এন্ড্রু কিশোরের বোনজামাই ডা. প্যাট্টিক বিপুল বিশ্বাস জানিয়েছেন, বর্তমানে শিল্পীর ম’রদেহ রাজশাহীর একটি হাসপাতা’লের হি’মঘরে রাখা হয়েছে। আগামীকাল সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে তার মায়ের পাশে সমাহিত করা হবে।

মৃ’ত্যুর আগে এন্ড্রু কিশোর নিজেই বলে গেছেন তাকে যেন মায়ের পাশেই সমাহিত করা হয়। সেই ইচ্ছায়ই মায়ের পাশেই তাকে সমাহিত করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তবে কখন এটা এখনো ঠিক করা হয়নি।

৯ মাস পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন এন্ড্রু কিশোর ১১ জুন রাত আড়াইটার একটি বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরেন। তারপর ঢাকার বাসায় বেশকিছু দিন অবস্থান করে শরীরের অবস্থা বিবেচনায় ও কোলাহলমুক্ত থাকতে তিনি গ্রামের বাড়ি রাজশাহী চলে যান।

Advertisement
Advertisement

Check Also

নায়িকা সুচন্দার ‘জীবনের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার’

Advertisement ‘এটি আনন্দের ব্যাপার। দেরিতে হলেও যে পুরস্কার পাচ্ছি তা নিঃস’ন্দেহে এটি আমা’র জীবনের শ্রেষ্ঠ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!