অবশেষে জাহাজ ডুবে মা’রা যাওয়া এতো লা’শের পরিচয় পাওয়া গেছে, একদিনে এতো লা’শ দেখিনি – OnlineCityNews

অবশেষে জাহাজ ডুবে মা’রা যাওয়া এতো লা’শের পরিচয় পাওয়া গেছে, একদিনে এতো লা’শ দেখিনি

আকস্মিক এই দুর্ঘ’টনায় অনেক পরিবারে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার। দিদার হোসেন (৪৫) ছিলেন মুন্সিগঞ্জ সদর উপজে’লার রিকাবিবাজারের পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা, পেশায় ডাল বিক্রেতা। ছোট বোন রুমা বেগম (৪০) কে নিয়ে ঢাকায় বড় বোনের অ’সুস্থ স্বামীকে দেখতে যাচ্ছিলেন তারা। লঞ্চডুবিতে তারা দুজনেই মা’রা গেছেন।

দেশে মহামা’রি চলছে, প্রতিদিনই আসছে মৃ’ত্যুর খবর। স্বজনহারা হচ্ছেন মানুষ। তারপরেও, একসঙ্গে বহু মানুষের অকাল মৃ’ত্যু যেন বাকরুদ্ধ করে দেয় আমা’দের।

এমন অনুভূতির কথা জানালেন মুন্সিগঞ্জের মীরকাদিম পৌর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মজিদ। বুড়িগঙ্গায় ডুবে যাওয়া লঞ্চ থেকে উ’দ্ধার করা লা’শগুলোর প্রসঙ্গে বলেন, ‘বয়স এখন ৫০ ছুঁতে চললো, কিন্তু সারা জীবনে আমি আগে কখনোই একসঙ্গে এত লা’শ দেখিনি।’

মীরকাদিম এখন স্বজনহারাদের কা’ন্না আর বিলাপের সুরে ভা’রি হয়ে উঠেছে। মজিদ বলেন, ”কে কাকে সান্ত্বনা দিবে, কে কার কবর খুঁড়বে- তা নিয়েই ব্যস্ত সবাই। একসঙ্গে এত মায়ের বুক খালি হওয়ার এ ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।”

সোমবার (২৯ জুন) দিনের প্রথমভাগে যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি রিশান ম’র্নিং বার্ডের সঙ্গে ঢাকা-চাঁদপুর রুটে চলাচলকারী এমভি ময়ূর নামের আরেকটি লঞ্চের মুখোমুখি সং’ঘর্ষ ঘটে। এর ফলে ৫০ জন যাত্রীসহ বুড়িগঙ্গা নদীতে ডুবে যায় এমভি রিশান ম’র্নিং বার্ড।

এখন পর্যন্ত অক্লান্ত চেষ্টায় ৩২টি লা’শ উ’দ্ধার করতে পেরেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। এই দুর্ঘ’টনায় মুন্সিগঞ্জের মীরকাদিম পৌর এলাকার পাঁচ অধিবাসী মা’রা গেছেন। এদের মধ্যে এক পরিবারের দুই ভাই-বোন রয়েছেন।

মাত্র ৫ হাজার বর্গফুটের ছোট্ট পৌর এলাকাটিতে সবাই মিলেমিশে বসবাস করেন। সবাই সবার পরিচিত। তাই হঠাৎ করে পাঁচ জনের একসঙ্গে মৃ’ত্যু সকলকে শোক বিহ্বল করে তুলেছে।

একই এলাকার আরেক অধিবাসী সাব্বির আহমেদ বলেন, ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ রুটে চলাচলকারী বেশিরভাগ লঞ্চের ফিটনেস নেই। এমভি রিশান ম’র্নিং বার্ডও এর ব্যতিক্রম ছিল না।

আকস্মিক এই দুর্ঘ’টনায় অনেক পরিবারে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার। দিদার হোসেন (৪৫) ছিলেন মুন্সিগঞ্জ সদর উপজে’লার রিকাবিবাজারের পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা, পেশায় ডাল বিক্রেতা। ছোট বোন রুমা বেগম (৪০) কে নিয়ে ঢাকায় বড় বোনের অ’সুস্থ স্বামীকে দেখতে যাচ্ছিলেন তারা। লঞ্চডুবিতে তারা দুজনেই মা’রা গেছেন।

তার আত্মীয় ও প্রতিবেশীরা জানান, মাত্র সাত মাস আগেই বিয়ে করেছিলেন দিদার। তার মৃ’ত্যুতে এই করো’নাকালেই বিধবা হলেন নববিবাহিতা স্ত্রী’। ঘটনার আকস্মিকতায় চি’ৎকার করে কাঁদছিলেন দিদারের সদ্য বিধবা স্ত্রী’ রুখসানা। ‘আল্লাহ এমন কেন হলো?’ সৃষ্টিক’র্তার প্রতি বুকভাঙ্গা প্রশ্ন তার।

দিদারের এক আত্মীয় বলেন, ‘শুধু ফিটনেস নেই তা নয়। ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ রুটের অধিকাংশ লঞ্চচালকই অ’প্রশিক্ষিত। আবার লঞ্চ মালিকেরা ঠিক মতো মেরামত বা সংস্কার না করেই লঞ্চ পরিচালনা করেন। রাজনৈতিক সম’র্থনের কারণেই তারা এ ধরনের অ’পকর্ম দিনের পর দিন ধরে চালিয়ে যেতে পারছেন।’

‘জীবনের ঝুঁ’কি নিয়ে মানুষকে এসব লঞ্চে চলাচল করতে হয়। এই কারণেই আজকের লঞ্চডুবিতে মুন্সিগঞ্জের ৩২ জন বাসিন্দা আজ প্রা’ণ হারালেন’ যোগ করেন তিনি। রুবেল নামে পশ্চিমপাড়ার এক বাসিন্দা বলেন, দুর্ঘ’টনায় পশ্চিমপাড়ার চারজন মা’রা গেছেন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত তিনজনের লা’শ পাওয়া গেছে।

লা’শ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ৫০ বছর বয়সী সুফিয়া বেগমের। তার সঙ্গে একই লঞ্চে থাকা কন্যা সুমা বেগম অবশ্য অলৌকিকভাবে প্রা’ণে বেঁচে ফিরেছেন। সুফিয়া বেগমের এক আত্মীয় আশেক মাহমুদ অ’ভিযোগ করেন, ‘বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই বিভিন্ন ঘাট থেকে মুন্সিগঞ্জ, চাঁদপুর এবং নারায়ণগঞ্জ রুটে ঝুঁ’কিপূর্ণ লঞ্চ চলাচল করতে পারে।’

এদিকে মুন্সিগঞ্জের ডেপুটি কমিশনার মনিরুজ্জামান তালুকদার জানান, ”লঞ্চে ঠিক কতজন যাত্রী ছিল তা আম’রা এখনও জানিনা। তাই এর মধ্যে কয়জন মুন্সিগঞ্জবাসী ছিলেন, তাও নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না।” তিনি বলেন, ‘দুর্ঘ’টনাস্থল ঢাকা হওয়ায় এখন সেখানকার জে’লা প্রশাসনের কাছ থেকে নি’হতদের তালিকা সংগ্রহের চেষ্টা করছি।’

সোমবার রাতে সাড়ে ৯টার দিকে দুর্ঘ’টনার প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর সুমন নামে এক ব্যক্তিকে জীবন্ত উ’দ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ সময় পরও তার বেঁচে যাওয়াকে অলৌকিক ঘটনা বলছেন অনেকে।

রাত ১০টা পর্যন্ত ৩২টি লা’শ উ’দ্ধার করা হয়েছে। সবগুলো লা’শ মিডফোর্ট হাসপাতা’লে নেয়া হয়। সেখানে লা’শ শনাক্তের পর তা স্বজনদের বুঝিয়ে দেয়া হয়। দুর্ঘ’টনায় নি’হতরা হলেন- মিজানুর রহমান (৩২), সত্যরঞ্জন বনিক (৬১), শহিদুল আলম (৬২), সুফিয়া বেগম (৫০), মনিরুজ্জামান (৪২), সুবর্না আক্তার (২৮), মুক্তা (১২), সেলিম হোসেন ভুইয়া (৫০), আফজাল শেখ (৪৮), বিউটি (৩৮), ময়না (৩৫), আমির হোসেন (৫৫), মহিম (১৭), শাহাদাৎ (৪৪), শামীম বেপারী (৪৭), মিল্লাত (৩৫), আবু তাহের বেপারী (৫৮), দিদার হোসেন (৪৫), হাফেজা খাতুন (৩৮), সুমন তালুকদার (৩৫), আয়েশা বেগম (৩৫), হাসিনা (২মাস), আলম বেপারী (৩৮), মোসাম্মৎ মা’রুফা (২৮), শাহিনুর হোসেন (৪০), তালহা (০২), ইসমাঈল শেখ (৩৫), তামিম (০৭), সুমনা আক্তার (২৫), সাইদুল ইস’লাম (৪২), পাপ্পু (৩০) ও বাসুদেব নাথ (৪৫)।দুর্ঘ’টনার পর মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আবারও উ’দ্ধার অ’ভিযানে নামে। এবং দুর্ঘ’টনা কবলিত লঞ্চটি এয়ার লিফটিংয়ের মাধ্যমে পানির উপরে ভাসাতে সক্ষম হয়। তবে আজ নতুন করে কোনো লা’শের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *