Breaking News
Home / বিনোদন / যে কারণে মায়ের মৃ’ত্যুতে কাঁদেনি সুশান্ত সিং রাজপুত

যে কারণে মায়ের মৃ’ত্যুতে কাঁদেনি সুশান্ত সিং রাজপুত

Advertisement

মায়ের শেষ আবদার না রাখবার আক্ষেপ কোনদিনই মন থেকে মুছে ফেলতে পারেনি সুশান্ত সিং রাজপুত। মৃ’ত্যুর আগের রাতে ফোন করে কেঁদেছিলেন সুশান্তের মা, বলেছিল ‘তুই ফিরে আয়’,মুখের উপর না বলে দিয়েছিলেন সুশান্ত।

সুশান্ত সিং রাজপুতের শেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্টে স্পষ্টতই ইঙ্গিত মিলেছে তাঁর অবসাদগ্রস্ত হওয়ার। মায়ের কথা মনে করেই মন কাঁদছিল সুশান্তের। অ’তীত পিছু ডাকছিল, কিন্তু সোনালি ভবিষ্যতের তাড়নাও তো কম ছিল না। দুয়ের মাঝখানে পড়ে যন্ত্র’ণায় কাতরাচ্ছিলেন সুশান্ত,তাই মায়ের কোলে একটু শান্তি চেয়েছিলেন বোধহয়। খুব অল্প বয়সে মাকে হারিয়েছেন অ’ভিনেতা।

২০০২ সালে মৃ’ত্যু হয় সুশান্তের মায়ের। ছে’লের আকাশছোঁয়া সাফল্যের ছিটে ফোঁটাও দেখে যেতে পারেননি সুশান্তের মা। শুধু তাই নয়, একটা আক্ষেপ আজীবন সুশান্তকে তাড়া করে বেড়িয়েছে-মায়ের শেষ আবদার রাখেননি তিনি,এমনকি মায়ের মৃ’ত্যুতে এক ফোঁটা চোখের জল ফেলেননি সুশান্ত সিং রাজপুত। ২০১৬ সালে ডিএন’কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে মন খুলে মাকে নিয়ে কথা বলেছিলেন সুশান্ত।

সুশান্ত জানান, ‘যদি মা আমা’র এই সাফল্যটা দেখতে পারত..আমি নিশ্চিত মায়ের আমাকে নিয়ে গর্ব হত।হয়ত মা থাকলে আমি অন্যরকম একটা মানুষ হতাম।আগে আমাকে যে সব জিনিসগুলো এক্সাইটেড করত এখন আর তা করে না। কোনও সম্পর্..কোনও সাফল্য..কোনও কিছুই নয়।… অ’ভিনয়টা আমাকে নিজের থেকে পালিয়ে বেড়াতে সাহায্য করে,তাই বোধহয় এটাকে আমি একটা ভালোবাসি’।

মা বেঁচে থাকলে সত্যি কি আপনার জীবনটা পাল্টে যেত? সুশান্ত জবাবে বলেন, বিশ্বা’স করবেন কিনা জানি না, মা মা’রা যাওয়ার পর আমি কাঁদিনি। কাউকে চিরতরে হারিয়ে ফেলবার ভ’য় থেকেই তো আম’রা কাঁদি, ভেবেছিলাম যাই করি না কেন,মাকে তো আর ফিরিয়ে আনতে পারব না।সেই সময় থেকে যেন আমি মানুষটাই পাল্টে গেলাম। সেটা আমা’র সঙ্গে রয়ে গেল…কিছু একটা যা আমাকে তাড়া করে বেড়াবে’।

কিছুটা থেমে ফের বলে চলেন সুশান্ত। আমাকে মা প্রতিদিন সন্ধ্যা বেলা ফোন করত (দিল্লিতে তখন পড়াশোনা করেন সুশান্ত) আমি খুব আদরে বাঁদর ছে’লে ছিলাম, তবে মা তো ছে’লেকে ভালোবাসবে এটাই ভাবতাম। আমাকে বাড়ি থেকে দূরে পাঠানোর সিদ্ধান্তে মা অনেক ক’ষ্ট পেয়েছিল জানতাম তবুও ছেড়েছিল আমা’র খুশির কথা ভেবে। রোজ ফোন করে খুশি আছে দেখানোর চেষ্টা করত। ডিসেম্বরের ১১ তারিখ (২০০২) রাত ১১.৩০ নাগাদ আমাকে ফোন করে অঝোরে কাঁদছিল।

আমি প্রশ্ন করি কাঁদছ কেন? কী’ হয়েছে? মা জবাবে বলেছিল..তুই বাড়ি চলে যায় বাবা, আমি বলেছিলাম এখন যাওয়া সম্ভব নয়, মা চুপ করে গিয়েছিল। আমি জানতাম মা আমাকে খুব মিস করছে, তবে ভেবেছিলাম ওটাই সঠিক সিদ্ধান্ত,পরে বাড়ি যাব। বলেছিল তুই নিজের খেয়াল রাখ,যত্ন নে শরীরের। এটা আমা’র মায়ের শেষ লাইন ছিল আমাকে বলা। পরের দিন সকালে খবর পেলাম মায়ের মৃ’ত্যুর। ব্রেন হামা’রেজে মা মা’রা যায়। বিশ্বা’স করুন আমি এক ফোঁটা চোখের জল ফেলেনি। একটুকুও কাঁদতে পারিনি…’

জানা যায়, বাথরুমে পড়ে গিয়ে মা’থায় চোট পান সুশান্তের মা, এবং ব্রেন হ্যামা’রেজের কারণে তাঁর মৃ’ত্যু হয়, ১২ ডিসেম্বর ২০০২ সালে। মায়ের শেষ আবদার না রাখতে পারার আক্ষেপ রয়েছে? সুশান্ত জানিয়েছিলেন, ‘আমি জানি আমা’র পক্ষে পরের দিন সকালেই ওখানে পৌঁছানো কোনদিনই সম্ভব ছিল না।

কিন্তু এই ভাবনাটা যে আমি মায়ের কাছে অনেকদিন যাইনি, আমা’র সঙ্গে রয়ে গিয়েছে। এখনও অনেক কারণ থাকে যেগুলোতে খুশি হওয়ার কথা কিন্তু আমি খুশি হই না। যেন একটা ম’রীচিকাকে ধাওয়া করছি।…আমা’দের সবারই আসলে একই হাল। আম’রা জানি কোনওদিন আম’রা সেই স্থায়িত্ব বা মানসিক সুরক্ষা পাব না, আম’রা যেটার জন্য ক্ষুধার্ত’।

মায়ের মৃ’ত্যুর ১৮ বছর পরও এই যন্ত্র’ণাগুলোই বোধহয় তাড়া করে বেড়িয়েছে সুশান্ত সিং রাজপুতকে। তাই তো তিনি নিজের শেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লিখে গেছেন, ‘আবছা অ’তীতের বাষ্প চোখের জলে ঝরে পড়েছে..অফুরন্ত স্বপ্ন একটা হাসি খুড়েই চলেছে.. এবং জীবন দ্রুত পরিবর্তনশীল, দুইয়ের মাঝে আমি ঝুলে রয়েছি..মা’।

Advertisement
Advertisement

Check Also

স্বামীর ‘বিরক্তিকর’ অভ্যাসের কথা ফাঁস করলেন প্রিয়ঙ্কা!

Advertisement Advertisement অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও মা’র্কিন পপ তারকা নিক জোনাসের একসঙ্গে ২ বছর কাটিয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!