ভ’য়ং’কর মা’দক ক্রি’স্টাল মেথ সেবনে যেভাবে মৃ’ত্যু হচ্ছে জেনে নিন – OnlineCityNews

ভ’য়ং’কর মা’দক ক্রি’স্টাল মেথ সেবনে যেভাবে মৃ’ত্যু হচ্ছে জেনে নিন

রাজধানীতে প্রবেশ করেছে ভ’য়ংকর মা’দক ক্রি’স্টাল মেথ। অ’তিরিক্ত সেবনে মৃ’ত্যু অ’পরিহার্য—তার পরও তরুণরা এর দিকে ঝুঁকছে। আগে থেকে ইয়া’বায় আ’সক্ত মাদ’কসেবীদের মধ্যে ক্রি’স্টাল মেথ (আইস ও গ্লাস নামেও পরিচিত) গ্রহণের প্রবণতা বেশি। মা’দক কার’বারিরা বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করছে এ দামি মা’দকটি—এ তথ্য জানিয়েছে সম্প্রতি রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে

ক্রি’স্টাল মেথসহ গ্রে’ফতার শফিকুল ইস’লাম। এ নিয়ে গত এক বছরে রাজধানীতে ক্রি’স্টাল মেথের তিনটি চালান জ’ব্দ হলো। মা’দক নি’য়ন্ত্রণ অধি’দপ্তরের কর্ম’কর্তারাও বলেছেন, মা’দকটির বিস্তার ঘটতে শুরু করেছে। তারা বলেছেন, প্রায়ই তাদের কাছে খবর আসছে—নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হচ্ছে ক্রি’স্টাল মেথ। মূলত ক্রিস্টাল মেথা’মফেটামাইনের সংক্ষিপ্ত নাম ক্রি’স্টাল

মেথ। এটি দেখতে স্বচ্ছ পাথরের মতো। রং নীলাভ সাদা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধক্ষেত্রে সৈনিকদের সজাগ ও উদ্দীপ্ত রাখতে মেথ ব্যবহারের কথা শোনা গেছে। চিকিত্সকরা স্থূলতা দূর করতে ও অ্যাটেনশন ডেফি’সিট হাই’পার অ্যা’ক্টিভিটি ডিসঅর্ডারের (এডিএইচডি) চিকিত্সায় সীমিত ক্ষেত্রে মেথামফেটামাইন ব্যবহার করেন উন্নত বিশ্বে। জানা গেছে, ক্রি’স্টাল মেথ সেবনের সঙ্গে

সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা অত্যন্ত দ্রুত বেড়ে যায়, এ অবস্থায় অনেকের মৃ’ত্যুও হয়। এটি মানুষের শরীরে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। সবচেয়ে বড়ো ব্যাপার এটি দীর্ঘমেয়াদি মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা তৈরি করে। যেমন : স্মৃ'তিভ্রংশ, উদ্বিগ্ন ও দ্বিধান্বিত করে। নিদ্রাহীনতা ও মানুষকে শেষে হিং’স্র করে তোলে। মা’দক অধিদপ্তরের কর্মক’র্তারা জানিয়েছেন, গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি

মা’দকের প্রথম চালানটি মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ধ’রা পড়ে। মাত্র ৮ গ্রাম ছিল ঐ চালান। এর সূত্র ধরে ঝিকাতলার ৭/এ নম্বর সড়কের ৬২ নম্বর বাসার বেজমেন্টে আইস পিল তৈরির একটি ল্যাব পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ল্যাব মালিক হাসিবসহ তিন জন গ্রে’ফতার হন। তখনই ভ’য়া’বহ এ মা’দকের বিষয়টি সবার গোচরে আসে। সে সময় মা’দক নিয়ন্ত্রণ অধি’দপ্তরের মহাপ’রিচালক

জামাল উদ্দিন আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে জানান, অন্যান্য মা’দক দুর্লভ হয়ে যাওয়ায় মা’দক ব্যবসায়ী ও সেবীরা এসব মা’দকের দিকে ঝুঁকছে। অ’ভিযান পরিচালনাকারী মা’দক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক খুরশিদ আলম জানিয়েছিলেন, হাসিবই দেশে প্রথম আইস তৈরি ও বাজারজাত করেছে। এর চার মাসের মধ্যে খিলক্ষেত এলাকায় ক্রি’স্টাল মেথসহ গ্রে’ফতার হন এক

নাইজেরীয় নাগরিক। এ সময় তার কাছে মেলে ৫০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ। পরে ভা’টারা এলা’কার আরে’কটি বাসায় অ’ভিযান চালিয়ে জ’ব্দ করা হয় ৪৭২ গ্রাম আইস। গোয়ে’ন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে নাইজেরীয় নাগরিক আজাহ অ্যানাওচুকওয়া ওনিয়ানুসি জানিয়েছিল, উগান্ডা থেকে আইসের চালানটি ডিএইচএল কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ঢাকায় আসে। জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা

যায়, তিনি শিক্ষার্থী ভিসায় বাংলাদেশে আসেন। গত দুই বছর ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। গার্মেন্টস ব্যবসার আড়ালে তিনি আইসের ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ গত ১৫ ফেব্রুয়ারি যাত্রাবাড়ীতে গ্রে’ফতার হন শফিকুল ইস’লাম, তার কাছে মেলে ৫৫ গ্রাম ক্রি’স্টাল মেথ। এ ব্যাপারে অ’ভিযান পরিচালনাকারী মা’দক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ঢাকা মেট্রো, দক্ষিণ বিভাগ) সহকারী

পরিচালক রাজিব মিনা বলেন, শফিকুল ইস’লাম জানিয়েছে, ক্রি’স্টাল মেথের চালানটি সে ভারত থেকে এনেছে। মা’দক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ঢাকা মেট্রো, দক্ষিণ) অ’তিরিক্ত পরিচালক মানজারুল ইস’লাম বলেন, শফিকুল ইস’লামকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রি’মান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। ই’য়াবার মতো ক্রিস্টাল মেথ বহন সহজ। তাছাড়া ই’য়াবা চালান আগের

মতো স্বাভাবিক না থাকার কারণেই মা’দকসেবীরা ক্রিস্টাল মেথের দিকে ঝুঁকছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ঢাকা মেট্রো, উত্তর) সহকারী পরিচালক খুরশীদ আলম বলেন, ই’য়াবার চেয়েও দাম বেশি আইসের এবং অনেক গুণ ক্ষ’তিকর মা’দক। একবার আইস সেবন শুরু করলে এ মা’দকের নির্ভরতা চলে আসে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মালয়েশিয়ায় এক গ্রাম ক্রিস্টাল মেথের দাম ৭ হাজার রিংগিত।

বাংলাদেশে এ মা’দ’কের বাজার ধ’রার জন্য তা কম দামে অর্থাত্ প্রতি গ্রাম ৭ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছিল। সহকারী পরিচালক খুরশীদ আলম জানিয়েছেন, যাদের ধ’রা হয়েছে তারা স্বীকার করেছে যে প্রতি গ্রাম আইস তারা ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করত। উল্লেখ্য, ইয়া’বার আগ্রাসন রুখতে ২০১৮ সালের ৪ মে থেকে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাঁড়াশি অ’ভিযান শুরু করে। অ’ভিযানে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ প্রায় ৪০০ মা’দক কার’বারি নি’হত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *