যে তিন বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্বের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রীর – OnlineCityNews

যে তিন বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্বের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রীর

ঘূর্ণিঝড় আম্ফান-পরবর্তী সময়ে তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিষয় তিনটি হলো—উপকূলের বাঁধে নজর রাখা, দুর্যোগের পর পানিবন্দি মানুষের খাবার পানি সংকট যেন না হয় এবং উদ্ধার অ’ভিযানে যাতে শিথিলতা না থাকে।

গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের (এনডিএমসি) বৈঠকে শেখ হাসিনা এসব নির্দেশ দেন। বৈঠকসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বৈঠকে সাত মন্ত্রী, ছয় সচিব, তিন বাহিনী প্রধান, আইজিপি, পিএসও উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে অনেক বেড়িবাঁধ ভেঙে ও ডিঙিয়ে অনেক এলাকায় লবণযুক্ত পানি ঢুকে যায়। তখন পানির মধ্যে আটকে পড়া মানুষ খাবার পানির সংকটে পড়ে। তাই শুধু ত্রাণ দিলেই হবে না, মানুষ যাতে খাবার পানির সংকটে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড় উপলক্ষে সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী কার্যক্রম যেন দ্রুত এবং আন্তরিকতার সঙ্গে পরিচালনা করা হয় সে বিষয়ে নজর রাখতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আটকে দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে কেউ যেন শিথিলতা না দেখান। সব মন্ত্রণালয়সহ তিন বাহিনীকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। কাজের ক্ষেত্রে যেন সমন্বয় থাকে সে বিষয়েও বিশেষ নজর রাখার তাগিদ দেন সরকারপ্রধান।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা একজন মন্ত্রী কালের কণ্ঠকে জানান, দেশব্যাপী ১৬ হাজার কিলোমিটার বাঁধ আছে। এর মধ্যে উপকূলীয় এলাকায় আছে পাঁচ হাজার কিলোমিটার। এসব বাঁধের মধ্যে ১৮টি পয়েন্ট (স্থান) ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকির জায়গাগুলোতে প্রয়োজনীয় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা বৈঠকে বলেন, ‘আগে দুর্যোগ এলে আম'রা জানতেই পারতাম না, লাখ লাখ লোক মা’রা যেত। এখন আবহাওয়া অধিদপ্তর আধুনিক যন্ত্রে সজ্জিত। সব খবর আম'রা আগে আগেই পেয়ে যাই।’

উপস্থিত একজন সচিব জানান, আপাতত উপকূলীয় এলাকায় ক্ষতি হওয়ার মতো ফসল নেই। পটুয়াখালীর মাঠে মুগডাল ছিল, আম্ফান উপলক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত ডাল ঘরে তুলেছেন কৃষকরা।

বৈঠকের শুরুতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব শাহ্্ কামাল বাংলাদেশের দুর্যোগ সম্পর্কিত সামগ্রিক কার্যক্রম বিষয়ে একটি প্রেজেন্টেশন দেন। এতে স্বাধীনতার পর দুর্যোগ মোকাবেলায় বঙ্গবন্ধু সরকারের নানা উদ্যোগসহ এ পর্যন্ত বিভিন্ন পদক্ষেপের ইতিহাস তুলে ধ’রা হয়। একই সঙ্গে ২০১২ সালে দুর্যোগ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবেলায় একটি সন্তোষজনক কাঠামো গড়ে ওঠার চিত্র তুলে ধ’রা হয়।

বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম বৈঠক সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলার সামগ্রিক প্রস্তুতির জন্য সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী, পু’লিশ এবং এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত স্থানীয় লোকজনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। শেখ হাসিনা বলেন, ‘পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত ২০ লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে এবং এ জন্য ১৩ হাজার ২৪১টি সাইক্লোন শেল্টার খোলা হয়েছে।’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী এনডিএমসির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী। প্রতি বছর এনডিএমসির একটি বৈঠক অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। তবে সভাপতি চাইলে একাধিক বৈঠক হতে পারে। এনডিএমসির সদস্য ৯ জন মন্ত্রী, ২৫ জন সচিব ও পাঁচটি সংস্থার প্রধানরা।

করো’নাভা’ইরাসের কারণে এনডিএমসির সব সদস্যকে গতকালের বৈঠকে ডাকা হয়নি। কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইস’লাম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদসচিব, সেনা নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, আইজিপি, প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও), অর্থ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ, পানিসম্পদ এবং তথ্য সচিবসহ কয়েকটি দপ্তরের প্রধানরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *